বান্দরবানের রুমা উপজেলায় শেষ হলো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। উপজেলার প্রত্যন্ত পাড়া-মহল্লা, পাহাড়ি গ্রাম থেকে হাজারো মানুষ সমবেত হন এ উৎসবে। সকাল থেকেই বৌদ্ধ বিহারগুলোতে চলে দান, দেশনা, প্রদীপ প্রজ্বালন ও সমবেত প্রার্থনা। নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে রুমা বাজার এলাকা।
সন্ধ্যা নামতেই শুরু হয় রথযাত্রা ও ফানুস উৎসব হাজার প্রদীপ জ্বালানো উৎসব, রঙিন আলোকসজ্জায় সজ্জিত রথে বুদ্ধমূর্তি স্থাপন করে ধর্মপ্রাণ ভক্তরা প্রদক্ষিণ করেন বাজার ও আশপাশের পাড়া-মহল্লা। কেউ মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেন, কেউ আবার আকাশে উড়ান আলোর ফানুস। মুহূর্তেই আলোকিত হয়ে ওঠে রুমার রাতের আকাশ।
মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে: আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধক করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আদনান চৌধুরী, প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে এস মং মারমা, ধর্মীয় আলোচক নির্বাহী পরিচালক অগ্রবংশ অনাথালয় উ. নাইন্দিয়া থেরো (ভান্তে), রুমা কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটি সভাপতিত্ব করেন উক্যসিং মারমা
পাহাড়ি কিশোর-কিশোরীদের ফানুস উড়ানো, নারীদের প্রদীপ হাতে প্রার্থনা আর শিশুদের উল্লাসে উৎসব পায় অন্যরকম রূপ। বাঁশ ও কাগজের তৈরি ফানুস যেন পাহাড়ের বুক জুড়ে ছড়িয়ে দেয় আলো ও সম্প্রীতির বার্তা। উৎসবপ্রাঙ্গণে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা চিংথোয়াই মারমা বলেন,প্রবারণা পূর্ণিমা আমাদের আত্মশুদ্ধি ও মিলনের উৎসব। এই দিনে পাহাড়ের মানুষ ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি আনন্দও ভাগাভাগি করে।
গালেংগ্যা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মেনরক ম্রো জানান, সারা বছর কাজের ব্যস্ততা থাকে, কিন্তু এই উৎসব আমাদের একত্রিত করে। এই দিনটা মানে একসাথে হাসা, প্রার্থনা আর আলো ছড়ানো। এইসব দেখে আমাদের ও ভালোই লাগে , আমিও গিয়েছিলাম লংবাইটং পাড়া বৌদ্ধ বিহারের।
রুমা কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি উক্যসিং মারমা জানান, এবারও সীমিত পরিসরে উৎসব আয়োজন করা হলেও মানুষের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক। রুমার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও সবাই এসেছে এ আনন্দ ভাগাভাগি করতে।
প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বিহারে চলে সারাদিনব্যাপী দান, দেশনা ও প্রার্থনা। রাতে ফানুস উড়িয়ে ও সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এই বছরের উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি। রুমার আকাশে উড়তে থাকা হাজারো আলোর ফানুস যেন জানান, আলো ছড়াক, মুছে যাক অন্ধকার।