× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

জুড়ীতে জামায়াত-এনসিপির নেতাকর্মীর সাথে সাংবাদিকও মামলার আসামী, সমালোচনা আর নিন্দার ঝড়

মো. আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার

০১ মার্চ ২০২৬, ২১:০৩ পিএম

ছবি: ফাইল

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর ১১৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, অবৈধ অর্থ বিতরণ এবং দেশীয় অস্ত্র মজুদের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় দৈনিক সংবাদ সারাবেলা পত্রিকার জুড়ী উপজেলা প্রতিনিধি খোর্শেদ আলমকেও আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিন্দা আর সমালোচনার ঝর বইছে জেলা জুড়ে।  

মামলায় জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীসহ মোট ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওই তালিকায় সাংবাদিক খোরর্শেদ আলমকে রাখা হয়েছে ১০৪ নাম্বারে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বেশ উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার বাদী জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান চুনু অভিযোগ করেন, মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অনুসারীরা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং দরিদ্র ভোটারদের নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য অবৈধভাবে অর্থ বিতরণের চেষ্টা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জামায়াতের নায়েবে আমীর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি টাকার বস্তা নিয়ে ভোটারদের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন। এছাড়া, গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দেশীয় অস্ত্র (লাঠিসোঁটা) মজুদের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়। বিশেষ করে জুড়ী উপজেলার ফুলতলা এলাকায় দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হওয়ার পরও রাতের বেলায় কিছু এলাকায় অর্থ বিতরণের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

মামলায় আসামি হিসেবে জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ডুমাবাড়ি গ্রামের সফিক মিয়ার ছেলে খোর্শেদ আলমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এলাকায় সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী হিসেবে পরিচিত।

খোর্শেদ আলমের পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, ঘটনার সময় তিনি নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন এবং কোনো নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি মন্তু মিয়া বলেন, “খোর্শেদ আলম একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি কখনও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।”

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন একই ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খোর্শেদ আলমকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”

সাংবাদিক খোরর্শেদ আলম জানান, রাজনীতির সাথে দূরতম সম্পর্ক না থাকা স্বত্বেও মামলা জড়ানোয় আমি হতবম্ভ। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার কন্ঠরোধ ও ভয় দেখানোর অংশ হিসেবেই মনে করি। আমি বিন্দু পরিমাণ বিচলিত নই। মামলায় তাঁকে জড়ানোর কারণ হিসেবে তাঁর ধারণা সম্ভবত এলাকায় পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষায় বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করায় একটি পক্ষের আক্রোশ থাকতে পারে। এছাড়াও বেশ কিছুদিন আগে এলাকার রাস্তা নিয়ে এক ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে বিরোধের কারণও থাকতে পাওে বলে মনে করেন তিনি।   

এ বিষয়ে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিনহাজ উদ্দিন জানান, সাংবাদিককে কীভাবে আসামী করা হয়েছে তা তদন্তের বিষয়। তদন্তে প্রমাণ না পাওয়া গেলে খোর্শেদ আলমের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে, এটা নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই। 

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.