ছবি: ফাইল।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে ”বাইতুল মামুর চক্ষু হাসপাতাল” নামে একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখার নামে প্রতারণা করে আসছিলেন তাফহিমুল ইসলাম। নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে তিনি বিভিন্ন গ্রামে চক্ষু ক্যাম্প পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে অভিযুক্ত। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, তাফহিমুল হুছাইন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে তার কোনো স্বীকৃত মেডিকেল ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণের সনদ পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগেও চিকিৎসক সেজে প্রতারণার দায়ে একাধিকবার দণ্ডিত হয়েছেন তাফহিমুল। ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল বান্দরবানে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে চক্ষু ক্যাম্প পরিচালনা করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এবং তার নয় সহযোগীকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে চিকিৎসা সামগ্রীসহ আটক করে পুলিশ। কাগজপত্র যাচাইয়ে তার সকল সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি সে সময় পাহাড় বার্তা অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়।
এদিকে ২০২৫ সালের ১০ মে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার যতারপুর গ্রামে একইভাবে ভুয়া চক্ষু চিকিৎসক সেজে ক্যাম্প পরিচালনার সময় আবারও আটক হন তাফহিমুল। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ মন্ডল।
এ সময় তার সহযোগী সাগরকে এক মাসের কারাদণ্ড এবং গাড়িচালক ইমনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এ দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলার তাফহিমুল ইসলাম নিজেকে ‘রাশিয়া পাস চক্ষু বিশেষজ্ঞ’ পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে তার সনদপত্র যাচাই করে। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) বা সংশ্লিষ্ট কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সনদ দেখাতে ব্যর্থ হন। এমনকি অন্য এক চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রমাণও পাওয়া যায়। শনিবার (১০ মে, ২০২৫) বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
নম প্রকাশের অনিচ্ছুক জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের দুজন বলেন, ফ্রিতে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ২০ টাকা নেয় তারপর চোখ দেখে বলে চোখের কোণে পিস্তি আছে যা ওই চিকিৎসা ছাড়া কেউ দেখতে পারবে না, চিকিৎসক বলে পরিক্ষা করার জন্য ৩০০ টাকা লাগবে পরবর্তীতে ১০০ টাকা নেয় আর বলে হাসাদাহ হেড অফিসে যেয়ে পিস্তি বেড় করতে হবে এখানে হবেনা। মুনতাহা ইসলাম বলেন, আমার দাদী হাসাদাহ চক্ষু হাসপাতালে চোখের অপারেশন করেছিল কিন্তু সুস্থ হয়নি সমস্যা আগের মতোই আছে।
তাফহিমুল ইসলাম বলেন, আমি ইন্টারমিডিয়েট কমপ্লিট করে রাশিয়া থেকে এমডি করেছি যা বাংলাদেশের এমবিবিএস এর সমমান এবং যারা রাশি থেকে এমডি করে আসে তারা এমবিবিএস লিখতে পারে, বিএমডিসির অনুমোদন কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিক্ষা দিয়েছি সামনে এপ্রিল মাসে আর একটি পরিক্ষা দিলে রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে।
হাসপাতাল এর পরিচালক মো. ইসরাইল হোসেন বলেন, হাসপাতালটি নতুনভাবে চালু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাগজপত্র এখনো যাচাই করা হয়নি। আমরা যতদূর জানি, তিনি একজন এমবিবিএস ডাক্তার। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শ্রী. শ্যামল কুমার পাল জানান ভুয়া ডাক্তারের বিষয়টা আমাদের দেখার একতিয়ার নেই এইটা প্রশাসন দেখে প্রশাসন যখন আমাদেরকে বলবে আমরা তখন আমাদের প্রতিনিধি নিয়ে যাব।
জীবননগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল বলেন এই বিষয় মাত্র জানতে পারলাম, আমার তদন্ত করে দ্রত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষটি আপনার থেকে জানতে পারছি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ (অপথ্যালমোলজিস্ট) হওয়ার জন্য প্রথমে ব্যাচেলর অব মেডিক্যাল অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি (এমবিবিএস) কোর্স করতে হয়, যা সাধারণত এমবিবিএস-এর পর চক্ষু বিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রি (যেমন. ডিও, এমএস, এফসিপিএস) থাকতে হয়। যা ভুয়া চিকিৎসক তাফহিমুল ইসলামের নেই। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৬১ নং আইন ) অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় বা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে একজন স্বীকৃত মেডিকেল চিকিৎসক হিসাবে বা প্রতিনিধিত্ব প্রকাশ করলে ৩ (তিন) বৎসর কারাদন্ড অথবা ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবে। স্থানীয়রা বলেন, অবিলম্বে হাসপাতালের কার্যক্রম তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জনগণের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
