রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সংক্রামণে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর ২টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ২টার মধ্যে তারা মারা যায়। দুপুরে হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, হাসপাতালে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮ শিশু চিকিৎসাধীন আছে। এর মধ্যে ৩৫ জন পজেটিভ। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১৬ জন। একই সময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৪ জন শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে দুইজন হাম সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত মোট তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে আক্রান্ত হয়ে।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি শিশু ভর্তি হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। এ জেলার ৪৭ শিশু এখন রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া রাজশাহীর ২৬, নওগাঁর ৪, কুষ্টিয়ার ১২, নাটোরের ৪, পাবনার ৪ ও মেহেরপুর একজন শিশু ভর্তি আছে হামের উপসর্গ নিয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই হাসপাতাল থেকে শিশুদের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করছে।
ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশের বয়স ৬ মাসের নিচে। এটা উদ্বেগজনক। কারণ শিশুদের টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে। এ অবস্থায় সরকার ৬ মাসেই হামের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘হাম যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য আমরা হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড ও আইসোলেশন কর্নার চালু করেছি। হাম থেকে জটিলতা বাড়লে আইসিইউ লাগতে পারে। এ জন্য জনবলসহ যা যা প্রয়োজন তা পেতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাবিবুর রহমান জানান, চলতি মাসে রাজশাহী বিভাগের আট জেলা থেকে মোট ৪১১টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষ করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৩৭টি নমুনা পজেটিভ এসেছে। যার মধ্যে মারা গেছে ১১ জন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫ জন, নওগাঁর একজন, পাবনার দুইজন, রাজশাহীর দুইজন ও সিরাগঞ্জের একজন।
রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ৪১১ নমুনা পরীক্ষার মধ্যে বগুড়ার ৩৫টি নমুনায় দুইটি পজেটিভ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৭৪টি নমুনার মধ্যে ৩৮টি পজেটিভ, নাটোরের ৩৭টির মধ্যে ১৩টি, নওগাঁর ৩৯টির ৮টি পজেটিভ, পাবনার ১২৫টি মধ্যে ৫৬টি পজেটিভি, রাজশাহী জেলার ৬০টি মধ্যে ১৭টি পজেটিভ এবং সিরাগঞ্জের ৩০টির মধ্যে ৩ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ পাওয়া গেছে।