নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে হাসি-আনন্দে ভরা একটি সকাল, যেখানে ছিল খেলা, ছিল ছোট্ট দুই বোনের অগাধ আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দই মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকের সাগরে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুকুরে ডুবে মামাতো-ফুফাতো দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের সওদাগর ঘোনা চারা বটতলী এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ডুলাহাজরা ইউনিয়নের হেলাল উদ্দিনের মেয়ে বকেয়া মনি (৮) এবং চারা বটতলী এলাকার মিরাজ উদ্দিনের মেয়ে হুরিফা জান্নাত (৫)। দু’জনই ছিল একে অপরের ছায়াসঙ্গী। একসঙ্গে খাওয়া, একসঙ্গে খেলা, একসঙ্গে হাসি। কেউ জানত না, সেই একসঙ্গেই তারা পাড়ি দেবে না ফেরার দেশে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে নানাবাড়িতে অবস্থানকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পুকুরের পাড়ে খেলতে যায় দুই শিশু। খেলতে খেলতে কখন যে তারা মৃত্যুর ফাঁদে পা দিল, তা কেউ টেরই পায়নি। অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে তলিয়ে যায় তারা। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের দেখা না গেলে স্বজনদের মনে শঙ্কা জাগে। শুরু হয় হাহাকার আর মরিয়া খোঁজাখুঁজি।
একসময় পুকুর থেকে তুলে আনা হয় দুই শিশুর নিথর দেহ। তখনও যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না এই তো কিছুক্ষণ আগেও তারা হাসছিল, দৌড়াচ্ছিল। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, উদ্ধারের সময় শিশুদের মুখ দিয়ে রক্তমিশ্রিত ফেনা বের হচ্ছিল। যা দৃশ্যটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তোলে।
উদ্ধার পরবর্তী দ্রুত তাদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তখন স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ আর স্বজনদের আহাজারিতে উপস্থিত অনেকেই অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি।
দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে বাড়িতে সকালেও ছিল শিশুদের কোলাহল, সেখানে এখন শুধুই নিস্তব্ধতা আর কান্নার শব্দ।
চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার (এসআই) মো. ফরিদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এমন মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক।