নীলফামারীর জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৮ হেক্টরের বেশি জমির ভুট্টা ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বৈদ্যুতিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টিতে জলঢাকা উপজেলার খুটামারা, ধর্মপাল ও গোলনা ইউনিয়ন এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় কালবৈশাখী। এতে ঘরের চালা উড়ে যাওয়া, গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং অসংখ্য বসতবাড়ি হেলে পড়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের ১, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং আরও প্রায় দুই শতাধিক ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা হেলে পড়েছে। ঝড়ে অন্তত ২০০ হেক্টর ভুট্টা ক্ষেত হেলে পড়ে যায়, যার একটি অংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম জানান, “গভীর রাতে হঠাৎ ঝড় শুরু হলে মুহূর্তেই ঘরের চালা উড়ে যায়। গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে। প্রাণহানি না হলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
পুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়েম বলেন, “ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।”
কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা লোকমান আলম জানান, উপজেলায় প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির ভুট্টা ক্ষেত হেলে পড়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১২ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে জলঢাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “হেলে পড়া ভুট্টার সবগুলোই নষ্ট হবে না, তবে কিছু ক্ষতি হয়েছে।”
এদিকে জলঢাকা উপজেলাতেও ঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ২৬ হেক্টর জমির ভুট্টা ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান জানান, “ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রস্তুত করা হচ্ছে।”
ঝড়ের কারণে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়া ও খুঁটি হেলে পড়ায় কিশোরগঞ্জ নেসকো কার্যালয় থেকে জলঢাকার টেংগনমারী এলাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
কিশোরগঞ্জ নেসকোর আবাসিক প্রকৌশলী শামসুল আরেফিন জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের পাশাপাশি কিছু স্থানে বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এতে মেরামত কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত লাইন সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।