ছবি: সংগৃহীত।
রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রথমে অভিযোগ পেয়েও মামলা নেয়নি পুলিশ। পরে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান শান্ত নগরের বোয়ালিয়া (পশ্চিম) থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া তার ভাই মো. শুভসহ অজ্ঞাত আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বাড়ি নগরের বোয়ালিয়া থানার বড়কুঠি বালুরঘাট এলাকায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ভুক্তভোগী ওই তরুণী তার এক বন্ধুকে নিয়ে বড়কুঠি এলাকায় আয়োজিত লিটারারি ফেস্টিভ্যাল দেখতে যান। সেখানে মোটরসাইকেল রাখার সময় টিকিট দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তির মাধ্যমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান শান্ত অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে প্যান্টের চেইন খুলে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের হুমকি দেন। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর ভুক্তভোগী তরুণী বিষয়টি থানায় জানালে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু সেখানে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি উল্টো পুলিশকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতেই ওই তরুণীকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করা হয়। পরে তরুণী থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে তা গ্রহণ করা হয়নি।
পরে রাতে পুলিশ অভিযুক্তদের থানায় ডেকে আনে। তখন ২০-২৫ জন দলীয় নেতাকর্মীও যান। তবে মামলা না থাকায় অভিযুক্তদের আটক করা হয়নি। এ সময় থানার ভেতরেও ভুক্তভোগীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় তরুণীকে নিরাপদে থানা থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং কিছুক্ষণ পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে অভিযুক্তরা থানা থেকে চলে যান।
পরদিন রোববার সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে থানায় ডেকে এনে তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী প্রথমে যেভাবে অভিযোগ লিখে এনেছিলেন, তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা যেত না। এ কারণে তখন মামলা নেওয়া যায়নি। পরে অভিযোগের তদন্তের পর মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মনিরুজ্জামান শান্ত বলেন, ঘটনাস্থলে তর্কবিতর্ক হয়েছে, তবে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়নি।
তবে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সে কারণেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের চার ফেব্রুয়ারি সরস্বতীপূজার মণ্ডপে ভাঙচুরের অভিযোগে মনিরুজ্জামান শান্তর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের নগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও রয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
