দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নির্দেশনার আলোকে নীলফামারীতে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরাসরি তদারকি করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এদিন জেলা প্রশাসক নিজ কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখেন এবং অপ্রয়োজনীয় লাইট বন্ধ রাখা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) সীমিত ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
সরকারের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এই তৎপরতা শুরু হয়েছে। এর আগে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সচেতনতা তৈরিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়—কক্ষের অপ্রয়োজনীয় লাইট বন্ধ রাখা এবং এসির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে। সেই উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব বিভিন্ন দপ্তরে ছড়িয়ে পড়ে।
এ প্রেক্ষাপটে নীলফামারীতেও একই ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রয়োজন ছাড়া লাইট ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালু রাখা যাবে না এবং অফিস সময় শেষে সব কিছু বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শপিংমল ও বিপণিবিতানসহ সব পর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের জন্য জানালার পর্দা সরিয়ে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের এ ধরনের সরাসরি তদারকি ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ জেলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, জাতীয় পর্যায়ের উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই কার্যক্রম জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।