শিক্ষার্থীদের সড়কে দাঁড় করিয়ে কোনো মন্ত্রী বা অতিথিকে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নীলফামারীর সৈয়দপুরে এমন একটি ঘটনার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেমা তাকমিলার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে শহরে বেসরকারি সেবামূলক সংস্থা ‘ওব্যাট হেল্পার্স’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানটি ‘সুস্থ মা ও সুস্থ শিশু’ নিশ্চিতকরণে পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৯৯ জন নবজাতকের মায়ের মধ্যে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ইউএনওর গাড়ি আগমনের সময় একজন আনসার সদস্য গাড়ির দরজা খুলে দিচ্ছেন এবং সড়কের দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। গাড়ি থেকে নামার পর তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এসময় এক শিক্ষার্থীকে সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে স্যালুট করতেও দেখা যায়। পরে ইউএনও ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন।

এ বিষয়ে ওব্যাট হাই স্কুলের ইনচার্জ মো. মনজুর আলম বলেন, “এটি আমাদের একটি নিয়মিত শিক্ষার্থী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল। শিক্ষার্থীদের সড়কে দাঁড় করানোটি অনাকাঙ্ক্ষিত হয়েছে। বিষয়টি দেখে ইউএনও মহোদয় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও ফারাহ তাকমিলা বলেন, “শিক্ষার্থীদের সড়কে দাঁড় করিয়ে আমাকে ফুল দেওয়া হয়নি—এটি সঠিক নয়। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিতে বলি।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির বিষয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলে দায়িত্ববোধ থেকেই উপস্থিত থাকতে হয়।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের জনসমক্ষে বা সড়কে দাঁড় করিয়ে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা পালনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি নির্দেশনা দেন শিক্ষামন্ত্রী, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে জারি করা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে সৈয়দপুরের এই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।