ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় প্রায় ৭ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস যেখানে বিস্তৃত ৪৭ কিলোমিটার সীমান্ত বর্ডার রয়েছে। আয়তনের দিক থেকে পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর জেলার তুলনায় কিছুটা ছোট দৌলতপুর উপজেলা। এই উপজেলায় ১৪ টি ইউনিয়নের ১৬১টি মৌজা এবং ২৪২টি গ্রাম রয়েছে। উত্তরে বাঘা ও লালপুর, দক্ষিণে গাংনী ও মিরপুর, পূর্বে ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে ভারত।
এত কিছুর বিপরীতে এই উপজেলায় একটিমাত্র থানা রয়েছে। ভৌগলিক আয়তন ও জনসংখ্যার তুলনায় এখানে পুলিশের সংখ্যা খুবি কম। কম সংখ্যক জনবল নিয়ে বৃহৎ এই জনগোষ্ঠীর পুলিশি সেবা দেওয়া অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে এ থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের।
তারপরেও এই থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তারা দিনরাত নিরলস ভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যায়।
সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে জাতীয় সংসদে ৭৫ কুষ্টিয়া ০১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ বাচ্চু মোল্লার দেওয়া একটি বক্তব্যকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে এবং সেটাকে পুঁজি করে
একটি মহল দৌলতপুর থানার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে নানা ধরনের বিপত্তিমূলক কথাবার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পূরো প্রশাসনকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেখানে তারা নানা ধরনের অসংগতিমূলক কথাবার্তা ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের দোষারোপ করার বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছেন এবং প্রশাসনিক ঊর্ধ্বতন মহল ও জনগণের কাছে তাদের অপরাধী বানিয়ে দোষী সাব্যস্ত করার সর্বোচ্চ অপকৌশল প্রয়োগ করে যাচ্ছে।
তাদের এই অপচেষ্টার ফলে এই অঞ্চলে বসবাসরত সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া ।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে প্রতিবেদক কথা বললে তারা জানান, ৫-ই আগস্ট পরবর্তী সময় দেশ থেকে ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায় হওয়ার পর দেশের প্রশাসনিক অবকাঠামো ভেঙ্গে পড়ে এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষের জান মাল রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করায় সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেছে পুলিশ বাহিনী। ঠিক দৌলতপুর উপজেলাতেও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে নিয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ দৌলতপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন। তারা আরো জানান বর্তমান দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান যোগদানের পর থেকে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া দৌলতপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে ।
পাশাপাশি এই উপজেলায় পুলিশের উপর জনগণের ব্যাপক ভরসার জায়গাও তৈরি হয়েছে যা পুলিশ বাহিনীর জন্য সুনাম বয়ে আনছে।
এ সকল বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান জানান, দৌলতপুর থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে আমি আমার সর্বোচ্চ টুকু দিয়ে এ অঞ্চলের জনগণের পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে চলেছি পাশাপাশি মাদক উদ্ধার, নিয়মিত মামলা, ওয়ারেন্ট তামিল, সহ কোন জায়গায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে সেদিকেও সজাগ নজর রাখছি। এ অঞ্চলের জনগণকে পুলিশি সেবা দিতে আমি সহ আমার বাহিনীর সদস্যরা বদ্ধপরিকর। পুলিশ জনগণের বন্ধু এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য আমরা মনে প্রানে কাজ করে চলেছি। তিনি আরো জানান, আমি মানুষ কোন ফেরেশতা নই ভুল ত্রুটি আমারও থাকতে পারে তবে সেটাকে সমালোচনায় পরিণত না করে আমাকে শুধরে নেওয়ার সময় দিবেন।
আমার মনে হচ্ছে একটি মহল চাইছে দৌলতপুর থানা পুলিশ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিষ্ক্রিয় থাকবে এবং এই সুযোগে তারা তাদের অনৈতিক কাজগুলে হাসিন করে নিবে। তবে বৈধভাবে আইনগত সহায়তার সর্বোচ্চটুকু আমার মাধ্যমে এই দৌলতপুরের জনগণ পাবে এটা আমি বিশ্বাস করি এবং দৌলতপুর থানার দরজা এই দৌলতপুরের জনগণের প্রাপ্য সেবা পাওয়ার জন্য সব সময় খোলা থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
