× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে মৌলভীবাজার, ঘাটতি ৩৬ মেগাওয়াট

মো. আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩২ পিএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সহ মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকে দেশের জ্বালানি খাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। যার সবচেয়ে প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ খাতে। এমন সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে সারাদেশের মতো গত কয়েক দিন ধরে স্মরণকালের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে পুরো মৌলভীবাজার জেলা। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও লোডশেডিং ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দিনের বেলা লোডশেডিং তো আছেই, সন্ধ্যার পর লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করে এই আছে, এই নেই অবস্থা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেক সময় জুড়েই লোডশেডিং হচ্ছে। সবমিলিয়ে পুরো জেলায় ৫০ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে বলে পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে। 

এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং থাকায় ব্যাঘাত ঘটছে পড়ালেখায়। দীর্ঘ সময় টানা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ার কারণে রাতের বেলা চার্য লাইট ও ব্যাকাপ লাইটের আলোয় কিছুক্ষণ চললেও চার্য শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকের ক্ষেত্রে মোমবাতিই একমাত্র ভরসা। এমন পরিস্থিতিতে কবে মিলবে লোডশেডিং থেকে পরিত্রাণ তা জানা নেই কারো। ক্রমাগত লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ছন্দপতনের পাশাপাশি এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে জেলার ৯২টি চাবাগানের সামগ্রিক উৎপাদনেও। এছাড়াও ব্যাবসা-বাণিজ্য সহ দৈনন্দিন কর্মঘণ্টার প্রভাব পড়ছে বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ের।  

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি শ্রীমঙ্গল কার্যালয়-এর তথ্য বলছে, জেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছেন ৪ লাখ ৮৮ হাজার। শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গ্রাহক সংখ্যার চাহিদার বিপরীতে পুরো জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৯৬ মেগাওয়াট। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র মাত্র ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর মধ্যে ঘাটতি রয়েছে ৩৬ মেগাওয়াটের মতো। এই পরিসংখ্যান গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী প্রতি ঘণ্টায় পরিবর্তন হচ্ছে। শুধু মৌলভীবাজার সদর উপজেলায়ই ২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ আছে সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ঘাটতি আছে ১০ মেগাওয়াট। যার কারণে উপজেলায় লোডশেডিং হচ্ছে ২৭ শতাংসের মতো। পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের দাবি মূলত চাহিদার বিপরীতে বিশাল ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং বেশি হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) মৌলভীবাজার বিতরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, জেলায় পিডিবির গ্রাহক রয়েছেন ৩৩ হাজার ৩শ ৫০ জন। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে ১৮ মেগাওয়াট। সেখানে তারা গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করতে পারছেন মাত্র ১২.৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ঘাটতি রয়েছে ৬.৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।    

জেলার পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবির দ্বায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে বিশাল ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং হচ্ছে। সরবরাহ বাড়াতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে ক্রমাগত লোডশেডিংয়ের মধ্যে গত ২১ ও  ২৩ এপ্রিল মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে তীব্র কালবৈশাখীর তান্ডব চলে। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল,মৌলভীবাজার সদর, বড়লেখা,জুরি,কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলায় কালবৈশাখীর তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শতশত গাছপালা ভেঙ্গে উপড়ে যায়। অনেক জায়গায় গাছ পড়ে সড়ক বন্ধ হয়ে সাময়িক সময়ের জন্য অচল হয়ে পড়ে। আবার অনেক জায়গায় পল্লী বিদ্যুতের লাইনের উপর গাছ ভেঙ্গে পড়ার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এমন পরিস্থিতে টানা দুই দিন মৌলভীবাজার সদর সহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। দুই দিনের কালবৈশাখী তান্ডবে জেলার ৩৭৯ টি স্পটে বিদ্যুতের খুঁটির উপর গাছ পড়ে মোট ৩৪টি ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সাড়ে ৩৪ লক্ষ টাকারও বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (টেকনিক্যাল) কমলেস চন্দ্র বর্মণ।  

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সুজিত কুমার  জানান, গরম বাড়ার সাথে সাথে গ্রাহকদের চাহিদাও বাড়ছে। যার কারণে পুরো মৌলভীবাজার জেলায় ৫০ ভাগ লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রাহক চাহিদার বিপরীতে ৩৬ শতাংশ ঘাটতির কারণে এখন প্রতি ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। প্রয়োজনে ডিজেল দিয়ে হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরাও চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব লোডশেডিং কমিয়ে আনা যায়। আশা করছি দ্রুতই সমাধান হবে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.