নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আজ বিতর্কিত ও সমালোচিত ব্যক্তি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর নারায়ণগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের বিরুদ্ধে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সচেতন নারায়ণগঞ্জবাসী’ ও ‘ভুক্তভোগী পরিবার’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্লাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন, যেখানে ফেরদাউসুর রহমানকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’, ‘শামীম ওসমানের দালাল’ এবং ‘হেফাজতের বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকারের সময় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের সংগঠনের ও আলেম সমাজের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছেন।
মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইন সহায়তা ফাউন্ডেশনের সভাপতি *জনাব রতন আহম্মদ* অত্যন্ত কড়া ভাষায় ফেরদাউসুর রহমানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "আলেমদের লেবাসধারী এমন জঘন্য ও বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তি আমাদের দৃষ্টিতে আসেনা সে আলেম হওয়ার যোগ্য নয়। তিনি মূলত একজন মুখোশধারী শয়তান ও আওয়ামী লীগের দালাল। নিজের স্বার্থের জন্য তিনি আলেম সমাজকে বলি দিয়েছেন।
অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ তোলেন যে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলা সভাপতি *মুফতি মনির হোসেন কাসেমী, হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশির উল্লাহ এবং কারাগারে শাহাদাত বরণকারী শহীদ ইকবালসহ* অসংখ্য আলেম ও নেতা-কর্মীর গ্রেফতারের পেছনে ফেরদাউসুর রহমানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল। তিনি গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য দিয়ে নিজ সংগঠনের লোকদের বিপদে ফেলেছেন বলে দাবি করা হয়।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করতে হবে। বিগত সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে আলেমদের হয়রানি করার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাকে সমাজ ও সংগঠন থেকে বয়কট করার আহ্বান জানানো হয়।
উক্ত মানববন্ধনে মাওলানা মনজুর আহমদসহ নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজ, সাইনবোর্ড এলাকার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া এই মানববন্ধনটি নারায়ণগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেয়।
নারায়ণগঞ্জের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে নিয়ে দীর্ঘদিনের যে ক্ষোভ ছিল, আজকের এই মানববন্ধন তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।