লক্ষীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নে যুবদলের আসন্ন কমিটিকে কেন্দ্র করে সভাপতি পদপ্রার্থী সবুজ হোসেনকে জড়িয়ে ভুয়া ভিডিও ও ছবি তৈরির অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাসুদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠলেও তিনি তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র, দলীয় নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চরশাহী ইউনিয়নে যুবদলের রাজনীতিতে সবুজ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত। আসন্ন কমিটিতে সভাপতি পদে তার অবস্থান শক্তিশালী হয়ে ওঠায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে মাদক সেবনের একটি ভুয়া ভিডিও ও কয়েকটি সম্পাদিত ছবি তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়, প্রায় ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সবুজের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে প্রলোভন দেখিয়ে এই ভিডিও ও ছবি তৈরি করা হয়। এসব কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ জনগণ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা বলেন, “দল পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন নোংরা প্রতিযোগিতা ও ষড়যন্ত্র অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে দলের ঐক্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে।”
ভুক্তভোগী প্রার্থী সবুজ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় আছি এবং দলীয় কর্মীদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ আমাকে হেয় করার জন্য ভাড়াটে লোক দিয়ে এই মিথ্যা ভিডিও তৈরি করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
তবে অভিযুক্ত প্রার্থী মাসুদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। আমাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই একটি মহল এ ধরনের অভিযোগ তুলছে।”
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরশাহী ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার, চায়ের দোকান ও জনসমাগমস্থলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মুরব্বি ও রাজনৈতিক নেতারা সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন না হলে এ ধরনের ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে দলীয় রাজনীতিতে আরও বিভাজন ও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
