টেকসই কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে জৈব-বালাইনাশক (বায়োপেস্টিসাইড) ব্যবহারের ওপর ব্যতিক্রমধর্মী কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর এলাকায়। সোমবার (৭ মে) দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমান কৃষিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বায়োপেস্টিসাইড একটি কার্যকর, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষিকে টেকসই করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. খোকন মিয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কর্মকর্তা মো. হুমায়ন কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মো. আক্তারুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিডের ডিলার মেসার্স বিল্লাল বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. বিল্লাল হোসেন।
সার্বিক আয়োজনে ছিলেন ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের টিএসও ঝিনাইদহ-১ এর মো. জাকির হোসেন। কর্মশালায় খালিশপুর এলাকার প্রায় ৬০ জন মডেল কৃষক অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে কৃষকদের বায়োপেস্টিসাইডের পরিচিতি, সঠিক প্রয়োগ পদ্ধতি, কার্যকারিতা এবং ফসলের ক্ষতিকর রোগ ও পোকা দমনে এর ভূমিকা সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্র্যাক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের বিভিন্ন সবজি বীজ, হাইব্রিড ধান “রাজা”, করলা বীজ “মনি”, চিচিঙ্গা “চাঁদনী” এবং উন্নতমানের আলু বীজের বৈশিষ্ট্য ও চাষাবাদ পদ্ধতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “রাসায়নিক কীটনাশক থেকে বায়োপেস্টিসাইডে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি। টেকসই কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষকদের মধ্যে জৈব-বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। দেশের কৃষি উন্নয়নে ব্র্যাক সিডের এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে জৈব-বালাইনাশকের কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের হাতে বিভিন্ন সবজি বীজ ও জৈব-বালাইনাশক উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়।