স্বামীর মৃত্যুর পর এক নারীর ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ও অন্তত ১২ কোটি টাকার অর্থ-সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে কুষ্টিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই নারী।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুর ১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মঙ্গলবাড়িয়া বাজার এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মনোয়ারা বেগম। এসময় তার ছেলে শামসুজ্জোহা, মেয়ে সাবরিনা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মনোয়ারা বেগমের ছেলে শামসুজ্জোহা জানান, তার বাবা মৃত সুরুজ্জামান ১৯৮০ সালে মামা তরিকুল ইসলামের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে আরেক মামা মফিদুল ইসলাম ব্যবসায় যুক্ত হলে প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয় “টিএমএস ট্রেডিং”। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিকভাবে ব্যবসা পরিচালিত হলেও ২০১৭ সালে সুরুজ্জামানের মৃত্যুর পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, স্বামীর মৃত্যুর সুযোগ নিয়ে মনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে কৌশলে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ব্যবসা ও সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন তার ভাই তরিকুল ইসলাম। পরবর্তীতে ব্যবসার হিসাব ও অংশীদারিত্ব বুঝে চাইলে মনোয়ারা বেগম ও তার সন্তানদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, টিএমএস ট্রেডিংয়ের সম্পদ, জমি ও দোকান মিলিয়ে অন্তত ১২ কোটি টাকার অংশীদারিত্ব রয়েছে। এছাড়া পুরো ব্যবসার পরিমাণ ৫০ কোটি টাকারও বেশি বলে দাবি করেন তারা। কিন্তু প্রকৃত হিসাব না দিয়ে উল্টো ঋণের দায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই। প্রতারণা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের সবকিছু দখল করে নেওয়া হয়েছে। এখন আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জীবনের নিরাপত্তার আশঙ্কায় ইতোমধ্যে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মনোয়ারা বেগমের দেবর আমিনুজ্জামানসহ আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন।