মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি নৌরুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবিতে জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকাল ১০টার দিকে মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ী বাজার চৌরাস্তা মোড়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
‘মাদারগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধন প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলে।
আয়োজকদের দাবি, মানববন্ধনে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অংশ নেন। এতে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিবহন শ্রমিক, কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল গফুর, মাদারগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশাররফ হোসেন তালুকদার লেমন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খালেদ মাসুদ তালুকদার সোহেল, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মোখলেস, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ফরহাদ হোসেন, উপজেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মাফিজুর রহমান, উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সমন্বয়কারী লেমন মিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, মাদারগঞ্জ–সারিয়াকান্দি রুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। জামালপুর, বগুড়া ও আশপাশের জেলাগুলোর মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তারা আরও বলেন, বগুড়ার কালিতলা ঘাট থেকে সারিয়াকান্দির জামতলা ঘাট হয়ে মাদারগঞ্জ পর্যন্ত এ রুটটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের প্রায় ১৬টি জেলার মানুষের রাজধানীমুখী যাতায়াত সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হবে। এতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বক্তারা জানান, ২০২২ সালের মার্চ মাসে সেতু কর্তৃপক্ষের একটি বিশেষজ্ঞ দল এ রুটে প্রাথমিক ট্রাফিক সার্ভে সম্পন্ন করেছে। তাই আর বিলম্ব না করে দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।