২০২৬ সালের বাংলাদেশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কনটেন্ট ক্রিয়েশন এখন শুধু বিনোদনের জায়গায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে একটি শক্তিশালী পেশা, ব্র্যান্ড এবং উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যম হিসেবে। বিশেষ করে নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটররা এখন ফ্যাশন, লাইফস্টাইল, কুকিং, ট্রাভেল এবং সামাজিক সচেতনতা বিষয়ক কনটেন্টের মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে নিজেদের তুলে ধরছেন। এই পরিবর্তনের অন্যতম পরিচিত মুখ কনটেন্ট ক্রিয়েটর রথি আহমেদ।
ভিন্নধর্মী চিন্তা, নিজস্ব স্টাইল এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমের মাধ্যমে রথি আহমেদ ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। ফ্যাশন, রান্না, লাইফস্টাইলসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তৈরি তার ভিডিওগুলো দর্শকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে এই যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব সাধারণভাবে— নিজের ভিন্ন স্টাইলে হিজাব পরার ভিডিও থেকে।
রথি জানান, শুরুতে কখনোই তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হওয়ার পরিকল্পনা করেননি। বন্ধুদের উৎসাহ এবং দর্শকদের অনুরোধেই ভিডিও তৈরি শুরু করেন। ২০১৭ সাল থেকে টিকটকে সক্রিয় থাকা রথি বর্তমানে দেশের অন্যতম পরিচিত নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে এই পেশাকে অনেকে গুরুত্ব দিতেন না, এখন এটি তরুণদের কাছে সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্র্যান্ড কলাবোরেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং, লাইভ কমার্স এবং অনলাইন ব্যবসার সম্প্রসারণের ফলে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ।
রথি আহমেদ মনে করেন, কনটেন্ট ক্রিয়েশন শুধু ভিডিও বানানো নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিকল্পনা, প্রেজেন্টেশন, এডিটিং এবং দর্শকের চাহিদা বোঝার বিষয়গুলো। বিশেষ করে কুকিং বা লাইফস্টাইল কনটেন্ট তৈরিতে দীর্ঘ সময় এবং পরিশ্রম প্রয়োজন হয়।
কনটেন্ট ক্রিয়েশনের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। তার রয়েছে “লাক্সারিওসা” নামে অনলাইন ব্যবসা এবং “ক্যাফে লাক্সারিওসা” নামে একটি রেস্টুরেন্ট। রথির মতে, কনটেন্ট ক্রিয়েশনের চেয়ে ব্যবসা দাঁড় করানো বেশি চ্যালেঞ্জিং। ছোট বয়সে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করা, বিনিয়োগের অভাব এবং প্রচারণার সীমাবদ্ধতা— সবকিছুই ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সুযোগ বাড়লেও চ্যালেঞ্জও কম নয়। অনলাইন ট্রোলিং, নেতিবাচক মন্তব্য, সাইবার বুলিং এবং সামাজিক মানসিকতার কারণে এখনও অনেক নারীকে মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। রথিও স্বীকার করেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা এবং কটূক্তি প্রায়ই তাকে মোকাবিলা করতে হয়। তবে তিনি নেতিবাচক মন্তব্য এড়িয়ে নিজের কাজের ওপর ফোকাস রাখার চেষ্টা করেন।
রথি আহমেদের মতে, আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশে ডিজিটাল কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রি আরও বিস্তৃত হবে। শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, এআই-ভিত্তিক কনটেন্ট, লাইভ শপিং এবং পার্সোনাল ব্র্যান্ডিংয়ের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে মানসম্মত এবং দায়িত্বশীল কনটেন্ট তৈরির গুরুত্বও বাড়বে।
রথি আহমেদ মনে করেন, মানুষের উপকারে আসে এমন ইতিবাচক কনটেন্ট তৈরি করাই একজন সফল কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তার ভাষায়, মানুষ যাতে আপনার কনটেন্ট দেখে ভালো কিছু শেখে বা উপকার পায়, সেদিকটা গুরুত্ব দেওয়া দরকার। কারণ ছোট থেকে বড়— সবাই এখন সোশ্যাল মিডিয়ার দর্শক।
ভবিষ্যতে নিজেকে দেশের শীর্ষ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের একজন হিসেবে দেখতে চান রথি আহমেদ। পাশাপাশি নিজের ব্যবসাগুলোকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নও দেখছেন তিনি। বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তার মতো নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটররাই এখন নতুন প্রজন্মের জন্য হয়ে উঠছেন অনুপ্রেরণার প্রতীক।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
