সামাজিক পর্যায়ে শিশু রামিসাসহ মাদরাসায় বলৎকারের শিকার সকল নারী এবং বালক শিশু ধর্ষণ ও বলৎকারের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সচেতন বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত নারী এবং পুরুষ সংগঠকরা। শনিবারা বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের হাসপাতাল রোডস্থ প্রেস ক্লাব ভবন চত্বরে সামাজিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এইচ.আর.ডি.এস) এর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, নদী রক্ষা সংগঠন তরী'র আহ্বায়ক শামীম আহমেদ, সদস্য অ্যাড. খালেদা মুন্নী, সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি দীপক চৌধুরী বাপ্পী, টেলিভিশন সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি আল আলামিন শাহীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা উন্নয়ন পরিষদের সহ-সভাপতি সাংবাদিক আবুল হাসনাত অপু, ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক, ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া আহ্বায়ক মো. আরিফ বিল্লাহ আজিজী, কন্যা সংগঠন সভাপতি সুনীতি সাহা, হেল্পলাইন কমিউনিটি সাবেক সভাপতি আবু বকর আইমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
এর আগে নারী ও শিশু সুরক্ষা এবং কন্যা আয়োজিত মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি সাথী সাহা, নারীশক্তি'র যুগ্ম মূখ্য সংগঠক জয়ন্তি বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রী ফারজানা খানম জার্মি, ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদস্য সচিব সাবের হোসেন, সমাজকর্মী কোহিনূর আক্তার প্রিয়া প্রমুখ। উভয় কর্মসূচিতে বক্তারা নরপিশাচগণ কর্তৃক দেশব্যাপী শহর ও গ্রামাঞ্চলে ৩ যুগ যাবত ক্রমাগত ধর্ষণ ও বলৎকারের অপকর্ম অব্যাহত থাকার জন্য সরকার এবং আইন-প্রশাসন সম্পর্কিত কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে এসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী নির্যাতনের শিকারদের বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের মৌখিক সান্ত্বনা,আশ্বাস দিলেই চলবে না। এই অপকর্মে জড়িতদের বিচারে কয়েক বছরের সাজা দিলেই ন্যায় বিচার হবে না, ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের একমাত্র কার্যকর শাস্তি হতে হবে ফাঁসি। তবেই ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে। কোনো কোনো বক্তা প্রকাশ্য জনসম্মুখে দোষীদের ফাঁসি দেয়ার দাবি জানান।
এছাড়া, উল্লেখিত ঘটনার একই দাবিতে গত শুক্রবার দুপুরে একই স্থানে ছাত্র শক্তির উদ্যোগে মানববন্ধন বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় বীর আব্দুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্ত মঞ্চ হতে বের হয়ে জেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। একই দিন বিকেলে বান্ছারামপুর উপজেলা সদরে একটি বিক্ষোভ মিছিল মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দুইদিনব্যাপী আয়োজিত প্রতিটি কর্মসূচিতেই অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষক ও বলৎকারকারীদের ফাঁসিসহ বিভিন্ন দাবিতে লেখা প্লেকার্ড এবং ব্যানার বহন করেন।