× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

চুয়াডাঙ্গায় যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতন:গর্ভেই ঝরে গেল ৭ মাসের সন্তান

অনিক সিদ্দিকী তন্ময়,জীবননগর প্রতিনিধি

০৩ জুন ২০২৬, ২২:২২ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতন, লাথিতে গর্ভেই মরল ৭ মাসের সন্তান। মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা যৌতুক না পেয়ে সাত মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্মমভাবে মারধর ও পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে এক মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে। পাষণ্ড স্বামীর এই বর্বরতায় গর্ভেই ঝরে গেছে সাত মাসের এক(অনাগত) সন্তান।

উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামে গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, কয়া গ্রামের সাহাবুলের ছেলে বিপ্লব (২৪)-এর সঙ্গে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শিখা খাতুনের (১৮) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিপ্লব বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর পরিবারের কাছে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন দাবি করে আসছিল। দরিদ্র বাবার পক্ষে এসব দাবি পূরণ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রায়শই শিখার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত মাদকাসক্ত বিপ্লব।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিপ্লব বাজার থেকে বাড়ি ফিরে আবারও স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনের জন্য চাপ দেয়। এ সময় শিখা খাতুন তার বাবার আর্থিক অসচ্ছলতার কথা তুলে ধরে এই বিপুল অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে বিপ্লব স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর শুরু করে এবং একপর্যায়ে তার পেটে সজোরে লাথি মারে। এতে গুরুতর জখম হয়ে শিখা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তীব্র রক্তক্ষরণের পর তার গর্ভে থাকা সাত মাসের সন্তানটি নষ্ট হয়ে যায়।

যৌতুকের দাবিতে এমন অমানবিক ও নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় কয়া গ্রামসহ গোটা চুয়াডাঙ্গায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে পাষণ্ড স্বামী বিপ্লবসহ এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ভুক্তভোগী শিখা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী বাবার আর্থিক অবস্থা জেনেশুনেই বিয়ে করেছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই টাকার জন্য চাপ দিত, মারধর করত। ঘটনার দিন আমার পেটে লাথি মারার পর আমি আর কিছু বলতে পারি না। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর জানতে পারি, আমার সাত মাসের সন্তানকে ওরা দুনিয়ায় আসতে দিল না, গর্ভেই মেরে ফেলেছে। আমি এই নির্মমতার বিচার চাই।”

এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, “যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নির্যাতন ও গর্ভপাতের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.