জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ছেলের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের আরেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ের বিয়ের সব প্রস্তুতিই ছিল সম্পন্ন। স্থান খোদ চিনিকল চত্বর! তবে গোপন এই আয়োজনের খবর পৌঁছে যায় স্থানীয় প্রশাসনের কানে। অবশেষে শুক্রবার দুপুরে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে এই বাল্যবিয়ে পণ্ড করে দিয়েছে প্রশাসন।
জানা গেছে, বর পেশায় একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং তিনি জয়পুরহাট চিনিকলের এমডি মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যার ছেলে। কনে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে, বয়স এখনো ১৮ পেরোয়নি। কনের বাবাও একই চিনিকলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
আইন অনুযায়ী বয়সের বাধা থাকলেও শুক্রবার দুপুরে চিনিকলের ভেতরেই বিয়ের এই গোপনীয় আসর বসেছিল। দাওয়াতি মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিনিকলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও।
বাল্যবিয়ের এই খবর পেয়ে কালক্ষেপণ না করে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী। প্রশাসনের উপস্থিতিতে ভেস্তে যায় বিয়ের আয়োজন। পরে কনের বাবার কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা আদায় করা হয় যে, মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই তাকে বিয়ে দেওয়া হবে না।
তবে বিয়ের মূল আয়োজনের কথা অস্বীকার করেছে বর ও কনের পরিবার। একে নিছক আংটি পরানো’ বা আক্দ অনুষ্ঠান বলে দাবি করেছেন ছেলের বাবা ও চিনিকলের এমডি মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যা।
তিনি বলেন, আমার ছেলে এমবিবিএস পাস করেছে। চিনিকলের এক কর্মকর্তার মেয়েকে সে পছন্দ করেছে। কিন্তু মেয়ের বিয়ের বয়স এখনো হয়নি। যেহেতু আমাদের দুজনেরই বদলির চাকরি এবং যেকোনো সময় বদলি হতে পারে, তাই দুই পরিবারের সম্মতিতে কেবল আংটি পরানোর আয়োজন করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের লোকজন আসার পর মেয়ের বাবা মুচলেকা দিয়েছেন। আগামী বছর যদি আমরা এখানে থাকি, তবে মেয়ের বয়স পূর্ণ হওয়ার পর ধুমধাম করেই বিয়ের অনুষ্ঠান করব।
এ বিষয়ে ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, গোপনে নাবালিকা মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মেয়েটির বয়স এখনো ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। তাই কনের বাবার কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। বাল্যবিয়ে রোধে প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।