সরকারি প্রকল্পের দুর্নীতির তথ্য লুকাতে সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে ঘুষ সাধার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও বহাল তবিয়তে আছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রশাসনিক কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র নন্দী। ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে খোদ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সচেতন মহল।
জানা গেছে, সম্প্রতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের বরাদ্দে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে যান স্থানীয় সাংবাদিকরা। এ সময় ওই ইউপি কর্মকর্তা তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দোহাই দিয়ে সাংবাদিকদের পথরোধ করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রকাশ্যে পকেটে টাকা গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই অনৈতিক কাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর কালীগঞ্জ ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ তাঁর নাম অপব্যবহারের নিন্দা জানিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী অকাট্য ভিডিও প্রমাণ থাকার পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত বা কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং তিনি নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঠ প্রশাসনের এই দীর্ঘসূত্রতাকে অপরাধ আড়াল করার অপচেষ্টা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র নন্দীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
যোগাযোগ করা হলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ মুঠোফোনে বলেন, কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।