× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, রুমায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

উবাসিং মারমা, রুমা প্রতিনিধি

১০ জুলাই ২০২৬, ১৩:২৩ পিএম

টানা চার দিনের মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের প্রধান সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।এতে রুমা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জনদুর্ভোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন চার ইউনিয়নে মোট ২৮টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে এবং দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রুমা উপজেলার চার ইউনিয়নে মোট ২৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাইন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোনো পরিবার আশ্রয় নেয়নি। তবে গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নের যদুরামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ৩টি পরিবারের ১৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

রুমা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ৫টি পরিবারের ১৫ জন, জাবালুল মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্রে ১০টি পরিবারের ২৫ জন, রুমা মডেল স্কুল ছাত্রাবাসে ৯টি পরিবারের ২৫ জনের পাশাপাশি ২০ জন ছাত্র-ছাত্রীসহ মোট ৪৫ জন এবং রুমা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ১১৩ জন অবস্থান করছেন। সব মিলিয়ে উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ২১৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে রুমা সদর এলাকার পাইলটপাড়া, বেথেল নিজপাড়া, লোঝিড়ি পাড়া, বাজার মার্মা লাইন, বাজার মুসলিমপাড়া, গালেংঙ্গ্যা মেনরতপাড়া, থানাপাড়া, সদরঘাট চেয়ারম্যানপাড়া, বড়ুয়াপাড়া, পলিকাপাড়া, রুমাচড় বাগানপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

অনেক স্থানে কোমর থেকে গলা সমান পানি জমে রয়েছে। কয়েকটি সেতু পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এবং নদীর দুই পাড়ের বিভিন্ন গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া থানাপাড়া যাওয়ার সড়কে পাহাড়ধসের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

বন্যা পরিস্থিতির শুরু থেকেই উপজেলা প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। বুধবার রাতে রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের মাঝে মুড়ি, চিড়া, বিস্কুট, বিশুদ্ধ খাবার পানি, মোমবাতি ও গ্যাস লাইটসহ শুকনো খাবার বিতরণ করেন। এছাড়া বুধবার সকাল থেকে তিনি উপজেলার বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার ও তিনি আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ঘুরে ঘুরে দুর্গত মানুষের মাঝে দুপুরের খাবার হিসেবে খিচুড়ি বিতরণ করেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

এদিকে, রুমা উপজেলায় টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে ২ নম্বর রুমা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মার্মা, অগ্র বংশ অনাথালয়ের পরিচালক উ: নাইন্দিয়া ভান্তে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং বিআরডিবি কর্মকর্তা প্রকাশ চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.