ফেনীতে মোহনা টিভির ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন সজিবকে ডেকে নিয়ে মারধর করে নদীতে ফেলে দেয় সন্ত্রাসীরা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ছাগলনাইয়া উপজেলার সোনাপুর গ্রামের ফেনী নদীর তীর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সজিবের উপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার (১১ জুলাই) ফেনী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা। ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু তাহেরের সভাপতিত্বে ও নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক রবিউল হক রবি, মুহাম্মদ আবু তাহের ভুঁইয়া, জসিম মাহমুদ, কামাল উদ্দিন ভূঞা, ফেনী টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল, সাপ্তাহিক স্বদেশপত্র সম্পাদক এনএন জীবন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুন, ফেনী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনির, বণিকবার্তা প্রতিনিধি নুর উল্যাহ কায়সার, একাত্তর টিভির প্রতিনিধি নুরুজ্জামান সুমন, ছাগলনাইয়ার সাংবাদিক শেখ কামাল, দাগনভূঞার সাংবাদিক এমএম রহমান সোহেল, ফুলগাজীর সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও কবির আহমদ নাসির, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ফেনী শাখার সাধারণ সম্পাদক দুলাল তালুকদার, মাছুম বিল্লাহ, ফখরুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম রাজু প্রমুখ।
এদিকে সাংবাদিক সজিব বাদী হয়ে ছাগলনাইয়ার যুবদল নেতা এমরান শিকদারকে প্রধান আসামি করে ২জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের নামে ছাগলনাইয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ শুক্রবার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইউনুস (৪৭) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ইউনুস জয়চাঁদপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিন প্রকাশ পেয়ার মিয়ার পুত্র। আহত সাংবাদিকের দুই চোখে, মুখে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
হামলার শিকার সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন মজুমদার জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বারবার ফোন করে নিউজ করার অজুহাতে তাকে ফেনী নদীর তীরবর্তী জগন্নাথ সোনাপুর গ্রামের বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে যায় এমরান শিকদার নামের এক যুবদল নেতা। এসময় মোটরসাইকেল যোগে হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত ৪জন ব্যক্তি এসে তাকে বেদম মারধর করে লাথি দিয়ে ফেনী নদীতে ফেলে দেয়। হামলাকারীরা তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে নদীতে ফেলে দেয় এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ভাংচুর করে। দুজন সন্ত্রাসী রিভলবার তাক করে তাকে গুলি করার হুমকি দেয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা চলে যায়। হামলার সময় তিনি শুনেছেন হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত একজন সন্ত্রাসী অপর একজন সন্ত্রাসীকে ওসমান গনি বলে ডাকতে শুনেছি।
সাংবাদিক সজিব বলেন, যে ব্যক্তি আমাকে ডেকে নিয়ে গেছে তাকে আমি চিনি। তার নাম এমরান শিকদার। এমরান শিকদার আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ ছাগলনাইয়া উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটির সদস্য।
ফেসবুক আইডি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে সে নিজেকে বেশকিছু ফটো কার্ডে শুভপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা হিসেবে প্রকাশ করেছেন।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইউনুস (৪৭) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অপরদিকে সজিবের উপর হামলার খবর পেয়ে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু শুক্রবার ছাগলনাইয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখতে যান। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন হামলাকারীরা কোনো দলের নয়। তাদের রাজনৈতিক বিবেচনা না করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।