মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর এলাকায় মনুনদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সহ দণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর এলাকায় মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলন, মজুদ ও পরিবহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালায়।
কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১১ টা থেকে দুপুর আড়াইটা টা পর্যন্ত টানা সাড়ে তিনঘণ্টা ব্যাপী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় বিশ্বাসের নেতৃত্বে অবৈধ বালু উত্তোলন, মজুদ ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানকালে শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) লাল মিয়া ও তার ছেলেকে নিজ বাড়িতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুদ রাখার অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়া, মো. মাসুম মিয়াকে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের দায়ে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান চলাকালে পূর্বে জব্দকৃত বালুর সঙ্গে নতুন করে জব্দ করা বালুও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিধি মোতাবেক দ্রুততম সময়ে জব্দকৃত বালু নিলামের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় বিশ্বাস জানান, পরিবেশ ও নদী রক্ষা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
এদিকে শুধু কুলাউড়া উপজেলায়ই নয়, পুরো জেলাতেই অবৈধ বালু খেকোরা দিনদিন আরও বেপরোয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুনদী ও কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক মাত্রায় অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেও কিছুতেই এর লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছে না।