× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ঝিনাইদহে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের তৎপরতা, পরোয়ানা নিয়েও সক্রিয় আল-ইমরান

এম. এইচ রুবেল, ঝিনাইদহ

১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৩ এএম

ছবি: ফাইল।

সন্ত্রাস, নাশকতা, বাড়িঘর ও দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরসহ একাধিক মামলার পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়া এবং একের পর এক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের গোপন ও প্রকাশ্য কর্মসূচি পরিচালনা করে ঝিনাইদহে চরম রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন  জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান। প্রশাসনের নাকের ডগায় ইমরান একের পর এক বিতর্কিত কর্মসূচি সম্পন্ন করলেও পুলিশ তাকে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হওয়ায় সর্বমহলে সমালোচনা বাড়ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এমন নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে জেলাজুড়ে চরম অসন্তোষ ও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করেন আল ইমরান। সরকার ও প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও পলাতক থেকে তার এই কর্মসূচির ঘোষণা ও সমন্বয় প্রকাশের পর থেকেই জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর আগে গত ৮ জুন ভোররাতে শহরের পায়রা চত্বর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী নিয়ে একটি ঝটিকা মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইমরান নিজেই। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ এইচএসএস সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর জেলা শহরে সেটিই ছিল সংগঠনটির প্রথম প্রকাশ্য রাজপথের মহড়া।

অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ভারতে পলাতক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতার সাথে আল ইমরান সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও তিনি একাধিকবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হয়ে নির্দেশনামূলক বার্তা আদান-প্রদান করেছেন বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আল ইমরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, নাশকতা, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের হয়ে মিছিল পরিচালনা ও যোগাযোগের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া ঝিনাইদহে বিএনপি কার্যালয় এবং জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলারও অন্যতম অভিযুক্ত আসামি তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আল ইমরান একের পর এক বেপরোয়া রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে গেছেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন জারি এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পরপরই তিনি ঢাকার রাজপথে পৃথক বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম শুরুর প্রথম প্রহরে বিক্ষোভ মিছিল, শেখ হাসিনার নামে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি এবং আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে ঝিনাইদহের প্রাণকেন্দ্র পায়রা চত্বরে প্রথম প্রকাশ্য মিছিল বের করেন তিনি। শুধু তাই নয়, সরকারের ঘোষিত তফসিলকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে মশাল মিছিল, ৫ই আগস্টের ঘটনার প্রেক্ষাপটে দলীয় নেতাকর্মী হত্যার বিচারের দাবিতে মশাল মিছিলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসূচির নেতৃত্বও দেন এই নেতা। এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুরো জেলাজুড়ে ঝটিকা পোস্টারিং অভিযান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে ধান কাটা কর্মসূচি পালন এবং বঙ্গবন্ধুর ১০৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান সরাসরি আয়োজন ও পরিচালনা করেন ইমরান।

এছাড়া অনুসন্ধানে জানা যায়, টানা প্রশাসনিক নজরদারির মধ্যেই গত ৩০ জুলাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঝিনাইদহ জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে অনুমোদিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই আত্মগোপনে থাকা ইমরান পুরো জেলায় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ধরে রাখা এবং পলাতক কর্মীদের সমন্বয় করার মূল দায়ভার গ্রহণ করেন।

জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের অভিযোগ, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু কারাগারে থাকার সুযোগে আল ইমরানই মূলত দলটির মূল ভ্যানগার্ড হিসেবে কলকাঠি নাড়ছেন। বিএনপি সভাপতি এম এ মজিদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগসহ একাধিক পরোয়ানা মাথায় থাকা একজন চিহ্নিত আসামি কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় একের পর এক মশাল মিছিল, ঝটিকা মহড়া ও শোক দিবসের কর্মসূচির মতো ঘটনা ঘটাতে ও পালন করতে পারছেন তা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। ইমরানকে দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে বলে বিরোধী দলগুলো হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া আশিস বিন হাছান মুঠোফোনে জানান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দলটির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রেখেছে, তাকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। শুধু ইমরানই নয়, সম্প্রতি জেলা ছাত্রলীগের যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেই তালিকায় যাদের নাম আছে তাদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

তিনি আরও জানান, ১৫ই আগস্ট কেন্দ্র করে দলীয় নেতাদের সক্রিয় করার চেষ্টা করছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নায়েব আলী জোয়ার্দ্দার। এমন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো বেআইনি তৎপরতা রুখে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.