নোয়াখালী হাসান হাট বাজারসংলগ্ন নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে লোহার রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহার এবং নির্ধারিত অনুপাতে সিমেন্ট না দিয়ে ঢালাই করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা নির্মাণাধীন ব্রিজের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এদিকে আজ সকালে নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এএস এম মহসিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এবং অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন বলে জানান । আগামী রোববারের মধ্যেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন
জানা গেছে, জেলার মাইজদী বাজার থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পূর্বে একলাশপুর-শরীফপুর ইউনিয়নের সংযোগস্থলে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি অবস্থিত। ২০২২ সালে একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। পরে ব্রিজটির গুরুত্ব বিবেচনায় ওই বছরই প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে পুরোনো ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিলেন এলাকাবাসী। তবে তাদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
একলাশপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার সেলিম মিয়া বলেন, কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের প্রতিবাদ করে আসছিল এলাকাবাসী। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। গত 3 দিন ধরে এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে নির্মাণাধীন ব্রিজের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে। সেখানে রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহার এবং সিমেন্টের পরিমাণ কম দেওয়ায় সাইডের রেলিংসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়তে দেখে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দেয়। তিনি আরও বলেন, ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এর নির্মাণকাজের মান আরও ভালো হওয়া উচিত ছিল। এ কারণে দুজনকে সাময়িক দরখাস্ত করা হয়েছে।। এবং উপজেলা প্রকৌশলী কে রাঙ্গামাটি বদলি করা হয়েছে। তিনি অবশ্যই দুই মাস আগে এখানে যোগদান করেন।।
চলমান নির্মাণকাজের বিষয়ে জানতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মনসুর আহম্মদ আহমেদ বলেন, আমি বুধবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদার তাদের অগোচরে যেসব জায়গায় রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহার করেছেন, সেগুলো অপসারণ করে সম্পূর্ণভাবে নতুন করে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারের বরাতে তিনি বলেন, শ্রমিকরা ঠিকাদারকে না জানিয়ে কিছু অনিয়ম করেছেন। তবে শ্রমিকদের এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছ থেকে পাওয়া ঠিকাদার ফরহাদ সৌরভের নম্বরে ফোন করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে ঠিকাদারের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজের নির্মাণকাজে অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
