মৌলভীবাজার শহরতলীর হাওর-পাহাড় ঘেরা ঘণবসতিপূর্ণ জগন্নাথপুর গ্রামে আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়েছে ভয়াবহ মাদক ইয়াবার ব্যবসা। গ্রামের সড়কের পাশে অন্তত ৪ থেকে ৫টি স্থানে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে এই মরণনেশা। নেই প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারী। পুলিশি টহলও সীমিত। পুলিশ বলছে জনবলের অভাব। কয়েকটি স্থানে নিয়মিত হচ্ছে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও। এসব স্থানে রাতের বেলা রিকশা চালকরাও ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ভয়ে যেতে চান না যাত্রীদের নিয়ে। এমন কী মাছ বিক্রেতার কাছ থেকে মাছ ক্রয় করে টাকা না দিয়ে উল্টো মারধরের ঘটনাও ঘটছে।
তথ্য প্রযুক্তির সহজ লভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেনীর যুবক-কিশোর দিনে-রাতে সমানতালে আসক্ত হচ্ছে অনলাইন জুয়ায়। এসব ঘটনার পিছনে রয়েছে শক্তিশালী একটি চক্র। গ্রামবাসী ভয়ে এই চক্রের নাম নিতেও চান না। এমন ভয়াবহ অভিযোগ খোদ পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই প্রকাশ্যে আনলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১১ নং মোস্তফাপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দারা।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশাল আয়তনের ঐতিহ্যবাহী এই গ্রামে এসব অপরাধ এখন এলাকাবাসীর আতঙ্ক আর মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামকে মাদক আর অপরাধীদের হাত থেকে বাঁচাতে সাবেক ইউপি সদস্য শাহ হেলাল শাহেল ও শ্রমিক নেতা মো: উজ্জল মিয়া সহ কয়েকজন যুবকের নেতৃত্বে একজোট হয়েছেন গোটা গ্রামবাসী।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে গ্রামের আবু হুরায়রা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জগন্নাথপুর সচেতন যুব সমাজ এর ব্যানারে মাদক, ছিনতাই ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত হন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ, গ্রামের মুরব্বি সহ নানা বয়সী কয়েকশো সাধারণ মানুষ।
মতবিনিময় সভায় গ্রামবাসীর পক্ষে যারা বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের বেশির ভাগেরই কন্ঠে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার ছাপ। এলাকায় হু হু করে ইয়াবার মতো সমাজ বিধ্বংসী মাদক ও চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ জন্য গ্রাম জুড়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি চান প্রশাসনের কঠোর অবস্থান।
ওই মতবিনিময় সভায় সাবেক ইউপি সদস্য প্রার্থী বাবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, সাড়ে ৪ হাজার ভোটারের গ্রাম জগন্নাথপুরে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। আজকে গ্রামে নিয়মিত ছিনতাই হচ্ছে,হাইজ্যাক হচ্ছে। মাছ বিক্রি করতে আসলেও মারধর করে টাকা না দিয়ে বিদায় করা হচ্ছে মাছ বিক্রেতাকে। বিচার দিলেও বিচার পাচ্ছেনা। মাত্র দুই থেকে তিনজনের এই চোর চক্রের কারণে বদনাম হচ্ছে গোটা জগন্নাথপুর গ্রামের। এই গ্রাম শহরতলীর একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম।
পুলিশ কর্মকর্তার সামনে তিনি প্রকাশ্যে বলেন, নানা অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় আমরা মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারিনা। এভাবে চলতে থাকলে এ গ্রামের ইজ্জত আর সম্মান বলতে কিছু থাকবে না। এই গ্রাম কে এখন অনেকে চোরের গ্রাম বলে আখ্যায়িত করেন। রাত হলে রিকশা চালকও আসতে চ্য়ানা। জিজ্ঞেস করলে তারা বলে এই গ্রামে রাতে গেলে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়।
স্থানীয় শ্রমিক নেতা মো: উজ্জল মিয়া বলেন, এই গ্রাম একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। আজকে মাদক আর ছিনতাইয়ের কারণে আমাদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। দিনে-দুপরে রাস্তায় কিংবা ব্রিজের উপরে মোবাইলে অনলাইন জুয়া চলছে। ইউপি চেয়ারম্যান সহ লোকজন দেখেও তারা থামছে না। এসময় তিনি গ্রামের অভিবাবক ও মুরব্বিদের এসব অপরাধ দমনে পাশে থাকার আহবান জানান।
সাবেক ইউপি সদস্য শাহ হেলাল শাহেল বলেন, রাতের বেলা দেখা যায় পল্লী বিদুতের জোনাল অফিসের সামনে,৫নং ব্রিজ ও ৪নং ব্রিজের উপর ইয়াবা বিক্রি হয়। আমরা এটা আর দেখতে চাই না। এর জন্য মৃত্যু হলেও পিছপা হবোনা।
মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভায় অতিথির বক্তব্যে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, সত্যি বলতে শুনতে খারাপ লাগছে যে শহরের কোল ঘেঁষা এই গ্রামে চোর আছে, মাদক ব্যবসায়ী আছে এমন কী জুয়ার আস্তানাও আছে। এখন থেকে এই এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশের টহল অবশ্যই বাড়ানো হবে এবং বিশেষ করে এই গ্রামে এখন থেকে আলাদাভাবে নজর দেয়া হবে। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবো। সম্প্রতি মৌলভীবাজার শহরের ৮ নং ওয়ার্ডে মাদকের সচেতন জনগণ মাদকের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন। এমন উদাহরন টেনে ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, একজোট হওয়ার কারণে সেখানকার মাদক ব্যবসায়ীরাও চুপসে গেছে। এমন কী ওই ওয়ার্ডে মাদকের সবচেয়ে বড় আস্তানা স্থানীয়দের সহায়তায় ধ্বংশ করে দিয়েছে পুলিশ।
গ্রামের মুরব্বি মঈজ উদ্দিন এর সভাপতিত্বে শ্রমিক নেতা মো: উজ্জল মিয়া ও আব্বাস উদ্দীন এর যৌথ সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, জয়নাল আবেদীন কাজল, মামুন মিয়া, ফারুক মিয়া, ব্যবসায়ী শহীদ মিয়া(মাহালদার) সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
