পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল কাঁঠালতলা মোড় এলাকায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে দ্রুত বিচার ও আইনি প্রতিকার দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. জামরুল ইসলাম শান্ত জানান, তাদের পারিবারিক বসতভিটার জমিটি ২০০৪ সালে তার মায়ের নামে এবং পরবর্তীতে ২০১৩ সাল থেকে তিনি নিজে বৈধ মালিক হিসেবে বসবাস করে আসছেন। এই জমি নিয়ে প্রতিপক্ষ মতিয়ার রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে এবং আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে কোনো প্রকার আদালতের নোটিশ বা প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই খোকন, মতিয়ার, সিরাজ, রবি, ছায়ের ও আমলসহ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা বসতবাড়ি ভাঙচুর করে এবং নগদ ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, ২ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২টি পালতো গরু লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় প্রায় ২০ থেকে ২২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও, থানার এসআই হাফিজুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। আইনকে সম্মান জানিয়ে পরিবারটি বর্তমানে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
অপরদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষে খোকন দাবি করেন, বিরোধীয় জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। তিনি বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের বাপ-দাদার ভিটা জবরদখল করা হয়েছিল। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও প্রতিপক্ষ তা মানেনি। তিনি আরও জানান, তাদের পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারে তারা পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং এ জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা থানায় এজাহার বা লিখিত অভিযোগ দিলে, নিয়মিত মামলা রুজু করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।