সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর ৪০০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে আবার একই জায়গায় এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে তাদের ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, মেধাবীদের মুক্তি দে’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘মামা-খালুর সুপারিশ, এই বাংলায় চলবে না’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না আর না’ এবং ‘ভাইভা কোটার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান সজিব বলেন, “১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে ৫০ করা মেধাধ্বংসী সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে দলীয়করণ, তদবির ও সুপারিশের সুযোগ তৈরি হবে। আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শিক্ষার্থীবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা যেমন দাঁড়িয়েছি, তেমনি বর্তমান সরকারও যদি মামা-খালু, মন্ত্রীদের সুপারিশ বা দলীয় বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগে দলীয়করণ করতে চায়, শিক্ষার্থীরা তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভাইভার নম্বর ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৫ করা যেতে পারে, কিন্তু ১০ থেকে ১১ করাও গ্রহণযোগ্য নয়। এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সারা বাংলাদেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
মলিকুলার ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘ভাইবার নম্বর ২০ থেকে ৫০ নিয়ে যাওয়ায় যাদের মামু, খালু এমপি-মন্ত্রী আছে, তাদের জন্য খুব ভালো হয়েছে। এজন্য তারা চুপ হয়ে আছে। দেখা যাবে সারা বছর ঘুরাঘুরি করে চাকরি পেয়ে যাবে, আর এদিকে একটা শিক্ষার্থী সারাবছর পড়াশোনা করে পাশও করতে পারবে না। মেধাবীরা চাকরি না পেয়ে হীনমন্যতায় ভুগবে। মেধাবীরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে না গেলে দেশের কোনো উন্নতি হবে না। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা যেন কোনোভাবেই প্রজ্ঞাপন না হয়। আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে নেব না।’
বিক্ষোভ মিছিলে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হেলাল বলেন, “’২৪-এর কোটা সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি আমরা। দুঃখের বিষয়, আজ আমাদের ভাইভা কোটার বিরুদ্ধে কথা বলতে হচ্ছে। বর্তমান সরকারকে বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে এমন অযৌক্তিক বিষয় প্রতিষ্ঠিত করতে যাবেন না। আমরা সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে চাই না। তবে প্রয়োজন হলে আমরা আবার রাজপথে নামব।”
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ আলভী বলেন, “কোটার বেড়াজাল থেকে আমরা বের হতে পারছি না। আগে কোটা দিতে চেয়েছিল, এখন ভাইভা কোটা দিতে চাচ্ছে। আমরা পূর্বে যেমন জাগ্রত ছিলাম, এখনো আছি। প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যাবেন না।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
