গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ থেকে বাঁচতে বর্তমানে এসি বা এয়ার কন্ডিশনার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিস হোক বা বাসা, দীর্ঘ সময় এসির নিচে কাটানো এখন সাধারণ বিষয়। তবে সম্প্রতি একটি প্রশ্ন অনেকের মনেই দানা বাঁধছে, সারাদিন এসির ঠান্ডায় থাকা কি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়? চলুন তাহলে বিস্তারিত জেনে নিই-
সরাসরি ঠান্ডা বাতাস কি দায়ী?
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির ঠান্ডা বাতাস সরাসরি কিডনিতে পাথর তৈরি করে না। তবে পরোক্ষভাবে এসির পরিবেশ আমাদের জীবনযাত্রায় এমন কিছু পরিবর্তন আনে, যা কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
কেন ঝুঁকি বাড়ে?
১. পানির তৃষ্ণা কম পাওয়া: এসির কৃত্রিম ঠান্ডায় থাকলে আমাদের শরীর সহজে ঘামে না। এর ফলে আমরা অনেক সময় তৃষ্ণা অনুভব করি না এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলে যাই। দীর্ঘক্ষণ শরীরে পানির অভাব বা ডিহাইড্রেশনই হলো কিডনিতে পাথর জমার প্রধান কারণ।
২. ইউরিন কনসেন্ট্রেশন বা প্রস্রাব ঘন হওয়া: পর্যাপ্ত পানি পান না করায় প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। এতে প্রস্রাবে থাকা ক্যালসিয়াম, অক্সালেট এবং ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদানগুলো জমাট বেঁধে পাথর তৈরি করতে শুরু করে।
৩. বিপাক প্রক্রিয়ায় প্রভাব: দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত ঠান্ডায় বসে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়ায়তারতম্য ঘটতে পারে, যা পরোক্ষভাবে কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও প্রতিকার
তৃষ্ণা না পেলেও পানি পান: এসিতে থাকলেও নির্দিষ্ট সময় পরপর পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করুন। দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করা উচিত।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: এসির তাপমাত্রা খুব বেশি কমিয়ে রাখবেন না। শরীরের সহনীয় তাপমাত্রা অর্থাৎ ২৫-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে এসি রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
মাঝে মাঝে স্বাভাবিক তাপমাত্রা: একটানা দীর্ঘক্ষণ এসিতে না থেকে মাঝে মাঝে সাধারণ তাপমাত্রায় আসার চেষ্টা করুন। এতে শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে।
সুষম খাদ্য তালিকা: লবণের পরিমাণ কমিয়ে দিন এবং আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান।
উপসংহার
এসির ঠান্ডা সরাসরি শত্রু নয়, বরং এসির পরিবেশে আমাদের অসচেতনতাই কিডনি পাথরের মূল কারণ হতে পারে। তাই গরমে এসির আরাম নিন, কিন্তু সেই সঙ্গে শরীরের আর্দ্রতা বা হাইড্রেশনের দিকেও সমান নজর দিন।
তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক, হাভার্ড হেলথ ও ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন