পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘বালুচ লিবারেশন আর্মি’ (বিএলএ)-এর সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর তিন দিনের ভয়াবহ লড়াই শেষ হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ জানিয়েছে, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বিদ্রোহীরে হটিয়ে শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী। গত কয়েক দিনের এই সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে বেলুচিস্তানের ডজনেরও বেশি জায়গায় একযোগে হামলা শুরু করে বিদ্রোহীরা।
তারা স্কুল, ব্যাংক ও সরকারি অফিস দখল করে নেয়। এক পর্যায়ে তারা প্রাদেশিক রাজধানীর মূল ভবনের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল।
এই লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ২২ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং ৩৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। সরকার দাবি করেছে, অভিযানে ১৯৭ জন বিদ্রোহীও মারা গেছে।
প্রায় ৫০ হাজার মানুষের শহর ‘নুশকি’-তে বিদ্রোহীরা পুলিশ স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নিয়েছিল। তিন দিন ধরে চলা তীব্র লড়াইয়ের পর সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সেনাবাহিনী শহরটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। পুনরুদ্ধারের আগে সংঘর্ষে সাতজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ।
এখানকার বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ভাগ পাওয়ার দাবিতে লড়াই করছে। শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিলেও এখনো বিভিন্ন এলাকায় বিদ্রোহীদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সূত্র : রয়টার্স