ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন আগামী দিনগুলোতে সম্ভব নয় বলে মূল্যায়ন করেছে একটি সূত্র। একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত ওই সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, তেহরানে শাসন পরিবর্তনের জন্য হয় স্থল সেনা অভিযান চালাতে হবে অথবা ব্যাপক অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের পুনরুত্থান ঘটতে হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে না। তাই যুদ্ধ শেষ করতে ইসরায়েলকে এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের প্রধান উদ্বেগ হলো যুদ্ধের ফলে তেলের দাম ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাব। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করছে, তারা সামরিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর আগে এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করেনি। এর ফলে তেলের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। প্রতিবেদনে অর্থনীতিবিদদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পরিমাণ তেল উৎপাদন সত্ত্বেও সংঘাতের কারণে মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে গ্যাসোলিনের দাম গ্যালনপ্রতি ৬০ সেন্ট বেড়েছে।
এই দামবৃদ্ধি ট্রাম্পের ‘সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ’ প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে। বাজারের উদ্বেগ কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের অভাব এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো এখন ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।