মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রায়শই এমন আক্রমণাত্মক কথাবার্তা বলার অভ্যাস থাকলেও জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তটি ল্যান্ডস্টুল শহরের মানুষের ওপর এক বড় ধরনের বজ্রপাতের মতো আঘাত হেনেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির এই ছোট্ট শহরের একটি হাই স্কুলে কর্মরত ৪৫ বছর বয়সি নাদিন ফারমন্ট তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কথা শুনে তিনি সত্যিই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সম্প্রদায়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই শহরের বাসিন্দারা এমন পরিস্থিতির জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না।
যদিও এর আগেও সেনা সংখ্যা কমানো বা মার্কিন সেনা পুনর্বিন্যাস নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে এবার ট্রাম্পের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এবং সরাসরি হুমকি দেওয়ার সুর ফারমন্ট ও তার প্রতিবেশীদের রীতিমতো চমকে দিয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) গভীর রাতে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয় যে তারা জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। এটি জার্মানিতে থাকা মোট মার্কিন সেনার প্রায় ১৫ শতাংশের সমান। এমনকি এর আগে বাইডেন প্রশাসন চলতি বছরের শেষ দিকে সেখানে যে ব্যাটালিয়নটি পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল, তাও বাতিল করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক গভীর শূন্যতা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৪৫ সালের বসন্তে জেনারেল জর্জ প্যাটন তার থার্ড আর্মি নিয়ে পার্শ্ববর্তী কাইসারস্লটার্ন শহরে প্রবেশের পর থেকেই আমেরিকানরা এই অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছেন। দীর্ঘ কয়েক দশকের এই গভীর সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের কারণে স্থানীয় জার্মানরা মার্কিন সেনাদের কেবল মিত্র হিসেবে নয়, বরং নিজেদের পরিবারের অংশ হিসেবেই দেখেন। ফলে হঠাৎ করে সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক বন্ধনের ওপর এক বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।