ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বাংলা ভাষায় কথা বললে বাঙালিদের ‘বাংলাদেশী’ তকমা দিয়ে হেনস্থা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সাম্প্রদায়িক ও ভাষাগত বিদ্বেষের ঢেউ এখন খোদ কলকাতাতেও আছড়ে পড়েছে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট ও পাঞ্জাব থেকে আসা বহিরাগতদের কাছে নিজ ভূখণ্ডেই অপমানিত হতে হচ্ছে বাঙালিদের। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করে আলোচনায় আসা ‘বাংলা পক্ষ’-এর প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায় এবার গ্রেফতার হয়েছেন।
কেন গ্রেফতার হলেন গর্গ চট্টোপাধ্যায়?
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার প্রথম সপ্তাহেই গ্রেফতার করা হয় গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে। গ্রেফতারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ বিধানসভা ভোটের আগে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। ইভিএম নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে গর্গের বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেখান থেকে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ যায়। তার ভিত্তিতে গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়। আজ গর্গকে আদালতে হাজির করানো হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই গর্গ ও তার সংগঠন ‘বাংলা পক্ষ’ পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে বাঙালিদের অগ্রাধিকার এবং হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই চালিয়ে আসছিল। এই লড়াইয়ের ময়দানে তিনি কট্টর বিজেপি বিরোধী অবস্থান নেওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
কলকাতায় বাঙালির অস্তিত্ব সংকট
বর্তমানে কলকাতায় ট্র্রেন, বাস ও জনপথে বাঙালিদের ‘বাংলাদেশী’ বলে অপমান করার প্রবণতা বেড়েছে। এমনকি বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি চাকরির বিজ্ঞাপনে বাঙালিদের বাদ দিয়ে হিন্দিভাষীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা সরাসরি উল্লেখ করছে। নিজ রাজ্যে বাঙালিদের এই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে পড়ার বিরুদ্ধে গর্গ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন এক বলিষ্ঠ কণ্ঠ।
বাংলাদেশ ও তিস্তা নিয়ে ভিন্নমত
ব্যক্তিগতভাবে গর্গ চট্টোপাধ্যায় তিস্তা পানি চুক্তির বিরোধী এবং বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও, একজন বাঙালি হিসেবে তার প্রতি হওয়া এই আইনি অবিচার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশী বাঙালি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও একজন বাঙালির অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে তাঁকে এভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া নিন্দনীয়।
গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের বর্তমান অবস্থা যেন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের সামগ্রিক পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের চাপে পিষ্ট হতে থাকা বাংলা ও বাঙালির অধিকার রক্ষায় তার এই গ্রেফতারি এক নতুন মোড় নিয়ে এলো। এখন দেখার বিষয়, আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি কতটা দ্রুত মুক্তি এবং ন্যায়বিচার পান।