জীবনযাত্রার চরম ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে সৃষ্ট সহিংস বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ায় প্যারিস এবং উত্তরাঞ্চলের আরও চারটি শহরে আংশিক রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছে ফ্রান্স সরকার।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুর কার্যালয় এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, লিলসহ চারটি উত্তরের শহরে সোমবার ও মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই নৈশকালীন সান্ধ্য আইন কার্যকর থাকবে। এদিকে রাজধানী প্যারিসে সোমবার রাত ৯টা থেকে বিক্ষোভের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী মার্সেইতে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্যারিসের বিশ্বখ্যাত লুভ্র জাদুঘরের প্রবেশদ্বার অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেওয়ায় তা পর্যটকদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। সহিংসতার জেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দিলে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ তা প্রত্যাখ্যান করেন। বিগত সপ্তাহের বিক্ষোভে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং ১ হাজার নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়েছেন। ৩০০০টিরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শত মিলিয়ন ইউরোর ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে জার্মানি তাদের নাগরিকদের ফ্রান্সে ভ্রমণের সতর্কতা হালনাগাদ করেছে এবং চীনও সতর্কতা জারি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহিংসতার সমালোচনা করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। ফ্রান্সে তেল ও খাবারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির এই অসন্তোষ ইতালি, বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে।