× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সাইবার ফাঁদে ১৩ হাজার নারী

ডেস্ক রিপোর্ট।

১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:১০ এএম

ছবি: সংগৃহীত।

সাইবার স্পেসে প্রতিনিয়ত নানাবিধ হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারীরা। ভুক্তভোগী অনেক নারী বেছে নিচ্ছেন আত্মহননের পথ। এ ধরনের অপরাধীরা অনেক সময় এসব ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেন বড় অঙ্কের টাকা। গত এক বছরে এমন সাইবারের ফাঁদে পড়েছেন ১৩ হাজারেরও বেশি নারী।

অসংখ্য ঘটনার মধ্যে সাইবারের ফাঁদে পড়েন মধ্যবয়সি এক নারী। ফেসবুকে পরিচয় হয় আশরাফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। পরিচয়ের ছয় মাস পর তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। নিয়মিত ভিডিওকলে কথা হয় মেসেঞ্জারে। এক পর্যায়ে ওই নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন আশরাফ। কথোপকথনের এক পর্যায়ে সে স্ক্রিন রেকর্ডারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ওই নারীর অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ধারণ করে রাখে মোবাইলে। পরে এসব ভিডিও ও ছবি ওই নারীর কাছে পাঠায়। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী নারী পুলিশের সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের ফেসবুক পেজে অভিযোগ করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আশরাফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ হাজার ৮১৩ নারী সাইবারে অভিযোগ করেন। এর মধ্যে অভিযোগ নেওয়া হয় ৪৮০টির। সমাধান করা হয়েছে ১৬৩টি এবং অভিযোগ মুলতবি রয়েছে ৩১৭টি। এগুলোর মধ্যে ১২ হাজার ৬৩২টি অভিযোগ টেলিফোনের মাধ্যমে সমাধান করেছে সিআইডি।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, সাইবারে নানা ধরনের হয়রানির ক্ষেত্রে নারীদের অভিযোগগুলো তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ওই নারীদের আইনানুগ সহায়তা দেওয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে সাইবারের ফাঁদে পড়ে পুলিশের কাছে ৯ হাজার ১৬৫ জন নারী প্রতিকার চান। ভুক্তভোগী এসব নারীর ৪ হাজার ১৩৪ (৪৫ শতাংশই) ডক্সিংয়ের (বিনা অনুমতিতে স্পর্শকাতর ছবি-ভিডিও, তথ্য প্রভৃতি প্রকাশ করা) শিকার হন। ইমপারসোনেশন ৫৩০ (৬.০০ শতাংশ), আইডি হ্যাক ১ হাজার ৩৯৩ (১৭.০০ শতাংশ), ব্ল্যাকমেইলিং ১ হাজার ৭২৪ (১৮.০০ শতাংশ), সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ করেন ৮৭৩ (৯.০০ শতাংশ), আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো ২৫৬ (৩.০০), মোবাইল হ্যারেজমেন্ট ২৪১ (২ শতাংশ) এবং অন্যান্য ১৪ জন। সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীদের তথ্য আদানপ্রদানে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় সাপোর্ট সেন্টার থেকে। হয়রানির বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এখান থেকে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও আইনগত পরামর্শও দেওয়া হয়। সম্প্রতি কণা (ছদ্মনাম) নামের ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, গোপনে ধারণ করা তার কিছু গোসলের ছবি কে বা কারা তারই নামে খোলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ফেক আইডি থেকে তাকে পাঠিয়েছে। আইডিতে মেসেজ দিয়ে সেসব ছবি কীভাবে পেয়েছে ও আইডি পরিচালনাকারী ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। সে ছবিগুলো ডিলিট করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ভুয়া আইডির পরিচালনাকারী কণাকে জানায় যে- সে তার কাছেরই কেউ এবং কণা যখন গোসল করছিল তখন সে ছবিগুলো ধারণ করেছে। এসব ছবি সে ডিলিট করে দিতে রাজি আছে যদি কণা নিজের আরও কিছু আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও নিজে ধারণ করে তাকে পাঠায় কিংবা বড় অঙ্কের টাকা দেয়। এ প্রস্তাবে কণা রাজি না হয়ে আইনি আশ্রয় নেওয়ার কথা জানায়। এতে অপরাধী ক্ষিপ্ত হয়ে কণার গোসলের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ সময় কণা তার অভিভাবককে জানান এবং তার বাবাকে নিয়ে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর কিছু আচরণবিধি মানা দরকার। বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী একজন নারী সাইবার স্পেসে হয়রানির শিকার হন বা তাকে যখন নানাভাবে অসম্মানজনক মন্তব্য করা হয় অথবা ব্যক্তিগত ছবি ধারণ, অশ্লীল অডিও-ভিডিও ধারণ করে সেটিকে ছড়িয়ে দেওয়া বা হুমকি দেওয়া হয়। এটি ছড়িয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা দেখি এর মধ্য দিয়ে কিন্তু আমাদের সমাজব্যবস্থায় একজন নারী সামাজিক জীবনে নানা ধরনের ক্ষতি ও প্রশ্নের সম্মুক্ষীণ হন।

যারা এ সাইবার স্পেসকে নিজের উদ্দেশ্যে বা অন্যকে হেয় করার জন্য ব্যবহার করে সেটি কখনো কখনো সমাজজীবন বা ব্যক্তিজীবনের ওপর তার প্রভাব তৈরি করতে চায়। এ ধরনের অপরাধীকে সাইবার অ্যাক্ট বা প্রচলিত আইনে বিচার করা সম্ভব, যদি একজন ভুক্তভোগী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও বন্ধুত্ব তৈরিসহ সব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.