ছবি: সংগৃহীত।
সারাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি ঢাকা ও আশপাশের জেলা শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। দিনের পর দিন টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে ফিরে আসছেন অভিভাবকরা; শিশুদের টিকা নেই। আবার অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও প্রয়োজনীয় টিকা পাচ্ছেন না।কবে টিকা আসবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছেন না স্বাস্থ্যকর্মীরা। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
কোথাও কোথাও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) টিকা বিতরণে অনিয়ম ও সরবরাহ সংকটের অভিযোগও উঠেছে। ফলে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ইপিআই টিকা বিতরণ কার্যক্রম স্থবির। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন শতাধিক সেবাগ্রহীতা টিকা নিতে এলেও পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ না থাকায় অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।এ নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও একই চিত্র দেখা গেছে। এখানে নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকা শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক অভিভাবককে পরবর্তী তারিখে আসতে বলা হচ্ছে, ফলে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে। সাড়ে তিন মাস বয়সি শিশু ওই সময়ের নির্ধারিত টিকা ৫ মাসেও পাচ্ছে না।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইপিআই সেবার চাহিদা বেশি হলেও সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। এখানে টিকা নিতে আসা অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না।
হাসপাতালগুলোর ইপিআই কর্নারে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শিশুদের অভিভাবক ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের। নির্ধারিত সময়ে সব টিকা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তারা। বিশেষ করে পেন্টাভ্যালেন্ট ও হাম-রুবেলা টিকার স্বল্পতার কথা উল্লেখ করেছেন অনেকে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে টিকা নিতে আসা অভিভাবক জুলেখা বেগম বলেন, সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও টিকা পাইনি। পরে জানানো হয়েছে টিকা শেষ হয়ে গেছে।
হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী রাবেয়া জানান, সরকার থেকে সরবরাহ কম আসছে। চাহিদার তুলনায় টিকা কম থাকায় সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তবে হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সাময়িক সমস্যা বলে উল্লেখ করেছেন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও দ্রুত তা সমাধানের চেষ্টা চলছে। নতুন চালান এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
হাসপাতালে ইপিআই টিকা বিতরণে চলমান সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বাস্থ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
