ছবি: সংগৃহীত।
ইসলাম জামাতে নামাজ আদায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। সাধারণত পুরুষদের জন্য মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করাই উত্তম ও অধিক ফজিলতপূর্ণ। তবে কোনো গ্রহণযোগ্য কারণে মসজিদে যেতে না পারলে স্বামী-স্ত্রী ঘরেও জামাতের সঙ্গে ফরজ নামাজ আদায় করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—ইকামত কে দেবেন? স্বামী নাকি স্ত্রী? এবং জামাতে নামাজের সময় স্ত্রী স্বামীর কোন পাশে দাঁড়াবেন? ইসলামী শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
স্বামী-স্ত্রীর জামাতে ইকামত কে দেবেন?
স্বামী ও স্ত্রী যদি একসঙ্গে জামাতে কোনো ফরজ নামাজ আদায় করেন, তাহলে স্বামী ইমামতি করবেন এবং ইকামতও স্বামীই দেবেন।
হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করা হয়েছে—
وَالْإِقَامَةُ مِنْ خِصَائِصِ الرِّجَالِ
‘ইকামত দেওয়া পুরুষদের দায়িত্ব ও বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত।’ (রদ্দুল মুহতার ১/৫৭২)
কারণ শরিয়তের দৃষ্টিতে আজান ও ইকামত দেওয়া পুরুষদের কাজ। নারীদের জন্য আজান ও ইকামত দেওয়া মাকরুহ হিসেবে বিবেচিত।
নারীদের জন্য আজান-ইকামতের বিধান
হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন—
لَيْسَ عَلَى النِّسَاءِ أَذَانٌ وَلَا إِقَامَةٌ وَلَا جُمُعَةٌ وَلَا اغْتِسَالُ جُمُعَةٍ
‘নারীদের ওপর আজান, ইকামত, জুমার নামাজ এবং জুমার জন্য গোসল আবশ্যক নয়।’ (বায়হাকি ৫৩৪৭, ২/১৬৯)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, নারীদের জন্য আজান ও ইকামত শরয়িভাবে নির্ধারিত নয়।
শুধু নারীরা জামাত করলে কী করবেন?
যদি শুধুমাত্র নারীরা নিজেদের মধ্যে জামাতে নামাজ আদায় করেন, তাহলে তারা আজান ও ইকামত ছাড়াই নামাজ আদায় করবেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন—
كُنَّا نُصَلِّي بِغَيْرِ إِقَامَةٍ
‘আমরা (নারীরা) ইকামত ছাড়াই নামাজ আদায় করতাম।’ (বায়হাকি ২/১১৭)
স্বামী-স্ত্রীর জামাতে স্ত্রী কোথায় দাঁড়াবেন?
স্বামী যখন ইমামতি করবেন, তখন স্ত্রী তার ডান পাশে দাঁড়াবেন। তবে একেবারে সমান বরাবর নয়; কিছুটা পিছিয়ে দাঁড়াবেন, যাতে স্ত্রীর গোড়ালি স্বামীর গোড়ালির পেছনে থাকে। আবদুল্লাহ ইবনে উতবা (রহ.) বলেন—
فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ
‘তিনি আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন।’ (মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক)
ফকিহগণ ব্যাখ্যা করেছেন, একজন মাত্র মুক্তাদি থাকলে তিনি ইমামের ডান পাশে দাঁড়াবেন। স্বামী-স্ত্রীর জামাতের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। তবে স্ত্রী সামান্য পিছিয়ে দাঁড়াবেন।
জামাতে নামাজের গুরুত্ব কুরআনের আলোকে
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ
‘তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ৪৩)
এই আয়াতে মুসলমানদের সম্মিলিতভাবে ইবাদত পালনের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, যা জামাতের গুরুত্বকে নির্দেশ করে।
জামাত ত্যাগের ব্যাপারে হাদিসের সতর্কবাণী
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন—
مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ فَلَمْ يَأْتِ فَلَا صَلَاةَ لَهُ إِلَّا مِنْ عُذْرٍ
‘যে ব্যক্তি আজান শুনল, অতঃপর কোনো বৈধ ওজর ছাড়া জামাতে উপস্থিত হলো না, তার নামাজ (পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ সওয়াবের দিক থেকে) হবে না।’ (ইবনে মাজাহ ৭৯৩)
এ হাদিস পুরুষদের জন্য জামাতে নামাজ আদায়ের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করলে স্বামীই ইমামতি করবেন এবং ইকামতও স্বামী দেবেন। কারণ আজান ও ইকামত পুরুষদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। স্ত্রী ইমামের ডান পাশে সামান্য পিছিয়ে দাঁড়াবেন। আর যদি কেবল নারীরা জামাত করেন, তাহলে আজান ও ইকামত ছাড়াই নামাজ আদায় করবেন।
মনে রাখতে হবে, সুস্থ ও সক্ষম পুরুষদের জন্য মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে কোনো গ্রহণযোগ্য কারণে মসজিদে যেতে না পারলে ঘরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করা উত্তম ও সওয়াবের কাজ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নামাজ ও জামাতের প্রতি যত্নবান হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
