× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইসলামের দৃষ্টিতে মেডিকেল টেস্টে ডাক্তারদের কমিশন ও ঔষধ কোম্পানির উপঢৌকন গ্রহণ

ডেস্ক রিপোর্ট।

০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ এএম

ছবি: সংগৃহীত।

আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি উদ্বেগজনক অনৈতিক দিক হলো, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাব কিংবা ঔষধ কোম্পানির পক্ষ থেকে ডাক্তারদের কমিশন, উপঢৌকন ও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা প্রদান করা। শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ এখানে রোগীর আস্থা, চিকিৎসকের পেশাগত আমানতদারিতা এবং মানুষের সম্পদের হক জড়িত, যা মানুষের সম্পদ অন্যায় ভাবে আত্মসাৎ করার পথকে সুগম করে। অথচ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৮)

শরিয়তের পরিভাষায় ডাক্তার ও রোগীর সম্পর্ককে আকদুল ইজারা তথা সেবাভিত্তিক চুক্তি বলে। রোগী নির্ধারিত ফি প্রদান করে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে। এ অবস্থায় রোগী হলো সেবাগ্রহীতা। আর ডাক্তার হলেন সেবাদাতা। রোগীর দায়িত্ব হলো, নিজের শারীরিক অবস্থা সঠিকভাবে জানানো এবং নির্ধারিত ফি প্রদান করা। পক্ষান্তরে ডাক্তারের দায়িত্ব হলো, রোগ নির্ণয় করে যথাযথ চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রয়োজনভেদে বিভিন্ন টেস্ট, স্ক্যান বা ল্যাব পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া এ দায়িত্বেরই অংশ।

অতএব, রোগীর কল্যাণ বিবেচনা করে কোন টেস্ট দিতে হবে, কোথায় করালে নির্ভরযোগ্য ফল পাওয়া যাবে, এসব নির্ধারণ করা ডাক্তারের পেশাগত দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু এ কাজের বিনিময় রোগী পূর্বেই ভিজিট ফি প্রদান করেছে, তাই এই দায়িত্ব পালনের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ বৈধ হতে পারে না। কারণ এক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণের অর্থ হলো, ডাক্তার নিজ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাজের জন্যই অন্যদের থেকে অর্থ গ্রহণ করছেন। আর এটা শরীয়ত নিষিদ্ধ ঘোষিত কাজের অন্তর্ভুক্ত।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির প্রতিপক্ষ থাকব। তারা হলো: ১- যে ব্যক্তি আমার নামে অঙ্গীকার করার পর গাদ্দারি করে (অঙ্গীকার ভেঙ্গে ফেলে)। ২-যেকোনো স্বাধীন মানুষকে (দাস বানিয়ে) বিক্রি করে তার অর্থ ভক্ষণ করে। ৩- আরেকজন হলো, সে ব্যক্তি যে কাউকে কর্মচারী বা শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করার পর তার থেকে যথাযথভাবে কাজ বুঝে নিয়েছে অথচ তাকে তার পারিশ্রমিক দেয়নি। (বুখারি, হাদিস : ২২২৭)

অন্য হাদিসে এসেছে , রাসুল (সা.) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা, উভয়ের ওপর লানত করেছেন। (আবু দাউদ, হাদিস:৩৫৮০)

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কী হয়েছে! আমরা যাকে কোনো দায়িত্ব দিয়ে পাঠাই, সে বলে,এটা সরকারি সম্পদ, আর এটা আমাকে উপহার দেওয়া হয়েছে! সে যদি তার পিতার ঘরে বা মাতার ঘরে বসে থাকত, তাহলে কি তাকে কেউ উপহার দিত? যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তার কসম! যে কেউ এমন অবৈধ উপহার গ্রহণ করবে, কিয়ামতের দিন সে তা নিজের ঘাড়ে বহন করে আসবে। (বুখারি, হাদিস:৭১৭৪)

আজকাল বহু ঔষধ কোম্পানি তাদের ব্র্যান্ডের ওষুধ প্রেসক্রাইব করানোর জন্য ডাক্তারদের নগদ অর্থ, বিদেশ ভ্রমণ, দামি উপহার, মোবাইল রিচার্জ কার্ড, ইলেকট্রনিক ডিভাইস কিংবা অন্যান্য সুবিধা দেয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে এসবও জায়েজ নয়। এটিও শরীয়তের দৃষ্টিতে বিনিময়হীন উেকাচের শামিল। কেননা চিকিৎসকের দায়িত্ব হলো, রোগীর জন্য যে ওষুধ সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী সেটিই নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করা। কোনো কোম্পানির আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে এ নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস (এ-এ-ও-আই-এফ-আই)-এর সিদ্ধান্ত মতে, কলম, প্যাড, খাতা, স্ট্যাপলার, প্রেসক্রিপশন স্লিপ বক্সের মতো স্বল্পমূল্যের স্টেশনারি সামগ্রী গ্রহণের সুযোগ আছে। এগুলোতে ঔষধ কোম্পানির ট্রেডমার্ক, উত্পাদিত পণ্যের ট্রেডনেম ছাপানো থাকে। মূলত এগুলো কোম্পানির বিজ্ঞাপনের হিসেবে দেয়া হয়। কিন্তু সেগুলো বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা বৈধ নয়। 

এই কমিশন-সংস্কৃতি শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে চিকিৎসাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নষ্ট হয়, নিম্নমানের ডায়াগনস্টিক সেন্টার টিকে থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় টেস্টের কারণে চিকিৎসা ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে চিকিৎসকের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত ব্যাহত হয়, রোগী-ডাক্তারের আস্থা ভেঙে পড়ে এবং চিকিৎসাসেবা ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক মুনাফাকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপ নেয়। এর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয় দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা।

হাদিসে এসেছে, কারো ক্ষতি করা বা একে অন্যকে ক্ষতির মুখোমুখি করা ইসলামে নিষিদ্ধ। (ইবনে মাজাহ:২৩৪০)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হালাল পদ্ধতিতে ইনকাম করার তাওফিক দান করেন।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.