বেলজিয়ামের বিপক্ষে হতাশাজনক হারে শেষ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। দলের এমন স্বপ্নভঙ্গের পর এর দায় পুরোপুরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মেগান র্যাপিনো।
শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই ম্যাচের আগে ফোলারিন বালোগানের খেলার যোগ্যতা নিয়ে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ এবং লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফিফার তাকে খেলার অনুমতি দেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
নিজের পডকাস্টে র্যাপিনো যুক্তি দেন, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের কারণেই পুরো প্রস্তুতি পর্ব একটি অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তিতে পরিণত হয়েছিল। র্যাপিনো বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিভ্রান্তি দলকে একরকমভাবে প্রভাবিত করেছে। এটা হোক লাল কার্ডের ঘটনা, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ, ফিফার সেটা হতে দেওয়া, অথবা এর চারপাশের এই সার্কাস—মনে হচ্ছিল সবকিছুই যেন তাদের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।’
তবে র্যাপিনোর মূল বক্তব্য এই নয় যে মাঠের প্রতিটি ভুলের জন্য ট্রাম্প দায়ী। মাঠে দুর্বল রক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণের অভাব ছিল যুক্তরাষ্ট্রের, আর বেলজিয়াম ছিল তুলনামূলক তীক্ষ্ণ, শান্ত এবং অনেক বেশি নির্মম।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। এতে শুরুতে বেলজিয়াম ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা ছিল না। তবে এই নিষেধাজ্ঞা বাতিলের জন্য প্রকাশ্যে ফিফার কাছে আবেদন জানান ট্রাম্প। শেষ পর্যন্ত বালোগানকে ছাড়পত্র দেয় ফিফা, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও বিশৃঙ্খল করে তোলে। পাশাপাশি এতে বেলজিয়ামের হাতেও একটা স্পষ্ট অভিযোগের সুযোগ চলে আসে।
নিজেদের ক্ষোভ লুকাননি বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রাও। রোমেলু লুকাকু চতুর্থ গোলটি করার পর ট্রাম্পের বিখ্যাত নাচের ভঙ্গি অনুকরণ করেন বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা। এতে বিতর্কটাকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ব্যবহার করে অপমানজনকভাবে জবাব দেয় দলটি।
বেলজিয়ামের সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও পোস্ট করা হয় ‘এটা উল্টে দাও’, যা বালোগানের নিষেধাজ্ঞা বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতি একটি স্পষ্ট খোঁচা। র্যাপিনো মূলত ইঙ্গিত দিয়েছেন এই বিষয়টির দিকেই।